“হিফজের স্বপ্ন”
রিমা নবম শ্রেণির ছাত্রী। বয়স মাত্র চৌদ্দ, কিন্তু আকাঙ্ক্ষা অনেক বড়। প্রতিদিন স্কুল থেকে ফিরে সে পাশের মাদরাসায় যায় কুরআন তিলাওয়াত শেখার জন্য। তার সবচেয়ে বড় স্বপ্ন—একদিন পুরো কুরআন হিফজ করা।
একদিন বাড়িতে আত্মীয়-স্বজন এসেছিল। তারা আড্ডায় বসে বলল,
— “মেয়েদের এত পড়ালেখা কিসের? বিয়ে দেবে হলেই হলো!”
রিমার মা মৃদু হাসলেন, বললেন,
— “রাসূল ﷺ বলেছেন, ‘জ্ঞান অর্জন করা প্রতিটি মুসলিম নর-নারীর উপর ফরজ’। মেয়ে মানুষ জ্ঞান থেকে পিছিয়ে থাকতে পারে না।”
সবাই চুপ হয়ে গেল। রিমার চোখে আত্মবিশ্বাস জ্বলজ্বল করছিল। রাতের নামাজ শেষে সে দীর্ঘ দোয়া করল,
— “হে আল্লাহ! আমাকে কুরআনের হাফিজা বানিয়ে দিন। আমি আপনার কালাম দিয়ে মানুষের জীবন বদলাতে চাই।”
দিনগুলো কেটে যায়। রিমা ধৈর্য, আমল ও চেষ্টা—এই তিন অস্ত্র নিয়ে এগিয়ে চলে। স্কুলের পড়া, ঘরের কাজ, আর মাদরাসার হিফজ—সব সামলে চলে সে। মাঝে মাঝে যখন ক্লান্ত হয়ে পড়ে, তখন মনে পড়ে যায়
সূরা আল-কামার — আয়াত ১৭
وَلَقَدۡ يَسَّرۡنَا ٱلۡقُرۡءَانَ لِلذِّكۡرِ فَهَلۡ مِن مُّدَّكِرࣲ
উচ্চারণ:ওয়ালাক্বদ্ ইয়াস্সারনাল্ কুরআনা লিজ্যিক্রি ফাহাল্ মিম্ মুদ্দাকির।
অর্থ:আর অবশ্যই আমি উপদেশ গ্রহণের জন্য কুরআনকে সহজ করে দিয়েছি; অতএব কেউ কি আছে উপদেশ গ্রহণকারী?
এই আয়াত তার অন্তরে নতুন শক্তি ঢেলে দেয়। একদিন মাদরাসার উস্তানি ঘোষণা করলেন—
— “আজ থেকে রিমা তার শেষ পারা শুরু করবে, ইনশা আল্লাহ।”
রিমার চোখে আনন্দের জল। পৃথিবীর সব শোরগোল থেকে দূরে, নীরবে সে আল্লাহর কালামের পথে এগিয়ে চলল। সে জানে, একজন নারীর জীবন শুধু রান্নাঘর বা ঘরের চার দেয়ালের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়—বরং আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে চলা, জ্ঞান অর্জন, ঈমানের আলো ছড়ানো—এগুলোই তার প্রকৃত মর্যাদা।
গল্পের শেষে রিমা বলল—
— “আল্লাহ আমাকে সুযোগ দিলে, আমি হাফিজা হয়ে শুধু নিজের জন্য নয়, অন্য মেয়েদেরও ইসলামের আলো দেখাবো।”
এভাবেই এক কিশোরী তার স্বপ্নকে Sunnah-এর পথে নিয়ে হাঁটা শুরু করল—
হিজাব রেখে, চরিত্র রক্ষা করে, ঈমানকে সঙ্গী করে।
এটাই এক মুসলিমা কিশোরীর প্রকৃত সৌন্দর্য।
Masaallah
ReplyDelete