Skip to main content

Posts

Showing posts from October, 2025

ইসলামিক গল্প (৩) "হিফজখানার মেয়ে"। মাওঃ ইনায়েতুল কারীম।

 “হিফজখানার মেয়ে” নূরজাহান বারো বছরের এক মেয়ে। গ্রামের ছোট এক হিফজখানায় থাকে। বাবা-ছাড়া সংসার—মা দিনমজুর। নূরজাহানের স্বপ্ন সে একজন হাফেজা হবে, যাতে কিয়ামতের দিন সে মায়ের মাথায় নূরের মুকুট পরাতে পারে। কিন্তু সমস্যা হলো— সে খুব দুর্বল শরীরের মেয়ে। প্রায়ই অসুস্থ হয়। অনেক সময় লম্বা রোজা, দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কোরআন তিলাওয়াত— এসবেই মাথা ঝিম ধরে। সহপাঠীরাও মাঝে মাঝে বলে—  “তুই পারবি না। কষ্টের জীবন কারো কাজে আসে না।” একদিন হঠাৎ নূরজাহান জ্বরে পড়ে অজ্ঞান হয়ে যায়। চিকিৎসক বলেন, “এত চাপ নেবে না, পড়া বন্ধ রাখো।” খবর শুনে মা চোখের পানি মুছতে মুছতে বলল, — “মা, যদি তোর জীবনই না থাকে, তাহলে হিফজ করে কী হবে?” চোখ খুলতেই নূরজাহান দুর্বল কণ্ঠে বলল, — “মা, জীবন আমার—আর উদ্দেশ্যও আমার। আল্লাহ্‌ চাইলে মৃত্যু ঘরে বসেও আসবে। কুরআন মুখস্থ করে মরলে মরাই শ্রেষ্ঠ।” পরদিন থেকেই সে আবার শুরু করে। সে কাঁপা কাঁপা গলায় শুধু একটি দোয়া পড়তে থাকে— “اللهم أعني على حفظ كتابك” — হে আল্লাহ! আপনার কিতাব হিফজে আমাকে সাহায্য করুন। দিন যায় মাস যায়। অবশেষে কোরআনের শেষ রুকু’টিও পড়া শেষ হয়...

ইসলামিক গল্প (২) একটি খেজুর গাছ। মাওঃ ইনায়েতুল কারীম।

একটি খেজুর গাছ :  একদিন এক ছোট গ্রামে একজন দরিদ্র কৃষক বাস করত। তার নাম ছিল আবদুল্লাহ। আল্লাহর প্রতি তার ভরসা ছিল অটুট, কিন্তু জীবনে দারিদ্র্য তাকে সবসময় কষ্ট দিত। একদিন সে তার ছোট ছেলেকে নিয়ে বাগানে কাজ করতে গেল। সেখানে একটি শুকনো খেজুর গাছ দাঁড়িয়ে ছিল—বছরের পর বছর ফল দিচ্ছিল না। ছেলেটি বলল, “আব্বা, এই গাছটা কেটে ফেলি না কেন? এর কোনো উপকার নেই।” আবদুল্লাহ মৃদু হেসে বললেন, “না বেটা, হয়তো আল্লাহ একদিন এই গাছকে আবার জীবিত করে তুলবেন। আল্লাহর রহমত থেকে কখনো হতাশ হও না।” কয়েকদিন পর প্রচণ্ড বৃষ্টি হলো। বৃষ্টির পর সবাই দেখল, সেই শুকনো খেজুর গাছে নতুন পাতা গজিয়েছে। কিছুদিনের মধ্যেই তাতে মিষ্টি খেজুর ধরল। গ্রামের লোকজন অবাক হয়ে বলল, “আবদুল্লাহ ভাই, আপনি গাছটা কেটে ফেলেননি বলে আল্লাহ আপনাকে বরকত দিয়েছেন।” আবদুল্লাহ বললেন, “আল্লাহর রহমতে কিছুই অসম্ভব নয়। ধৈর্য আর আশা—এই দুই-ই মুমিনের সম্পদ।

ইসলামিক গল্প (1) হিফজের স্বপ্ন। মাওঃ ইনায়েতুল কারীম ।

                                       “হিফজের স্বপ্ন” রিমা নবম শ্রেণির ছাত্রী। বয়স মাত্র চৌদ্দ, কিন্তু আকাঙ্ক্ষা অনেক বড়। প্রতিদিন স্কুল থেকে ফিরে সে পাশের মাদরাসায় যায় কুরআন তিলাওয়াত শেখার জন্য। তার সবচেয়ে বড় স্বপ্ন—একদিন পুরো কুরআন হিফজ করা। একদিন বাড়িতে আত্মীয়-স্বজন এসেছিল। তারা আড্ডায় বসে বলল, — “মেয়েদের এত পড়ালেখা কিসের? বিয়ে দেবে হলেই হলো!” রিমার মা মৃদু হাসলেন, বললেন, — “রাসূল ﷺ বলেছেন, ‘জ্ঞান অর্জন করা প্রতিটি মুসলিম নর-নারীর উপর ফরজ’। মেয়ে মানুষ জ্ঞান থেকে পিছিয়ে থাকতে পারে না।” সবাই চুপ হয়ে গেল। রিমার চোখে আত্মবিশ্বাস জ্বলজ্বল করছিল। রাতের নামাজ শেষে সে দীর্ঘ দোয়া করল, — “হে আল্লাহ! আমাকে কুরআনের হাফিজা বানিয়ে দিন। আমি আপনার কালাম দিয়ে মানুষের জীবন বদলাতে চাই।” দিনগুলো কেটে যায়। রিমা ধৈর্য, আমল ও চেষ্টা—এই তিন অস্ত্র নিয়ে এগিয়ে চলে। স্কুলের পড়া, ঘরের কাজ, আর মাদরাসার হিফজ—সব সামলে চলে সে। মাঝে মাঝে যখন ক্লান্ত হয়ে পড়ে, তখন মনে পড়ে যায়...