Skip to main content

Posts

ইসলামিক গল্প (৩) "হিফজখানার মেয়ে"। মাওঃ ইনায়েতুল কারীম।

 “হিফজখানার মেয়ে” নূরজাহান বারো বছরের এক মেয়ে। গ্রামের ছোট এক হিফজখানায় থাকে। বাবা-ছাড়া সংসার—মা দিনমজুর। নূরজাহানের স্বপ্ন সে একজন হাফেজা হবে, যাতে কিয়ামতের দিন সে মায়ের মাথায় নূরের মুকুট পরাতে পারে। কিন্তু সমস্যা হলো— সে খুব দুর্বল শরীরের মেয়ে। প্রায়ই অসুস্থ হয়। অনেক সময় লম্বা রোজা, দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কোরআন তিলাওয়াত— এসবেই মাথা ঝিম ধরে। সহপাঠীরাও মাঝে মাঝে বলে—  “তুই পারবি না। কষ্টের জীবন কারো কাজে আসে না।” একদিন হঠাৎ নূরজাহান জ্বরে পড়ে অজ্ঞান হয়ে যায়। চিকিৎসক বলেন, “এত চাপ নেবে না, পড়া বন্ধ রাখো।” খবর শুনে মা চোখের পানি মুছতে মুছতে বলল, — “মা, যদি তোর জীবনই না থাকে, তাহলে হিফজ করে কী হবে?” চোখ খুলতেই নূরজাহান দুর্বল কণ্ঠে বলল, — “মা, জীবন আমার—আর উদ্দেশ্যও আমার। আল্লাহ্‌ চাইলে মৃত্যু ঘরে বসেও আসবে। কুরআন মুখস্থ করে মরলে মরাই শ্রেষ্ঠ।” পরদিন থেকেই সে আবার শুরু করে। সে কাঁপা কাঁপা গলায় শুধু একটি দোয়া পড়তে থাকে— “اللهم أعني على حفظ كتابك” — হে আল্লাহ! আপনার কিতাব হিফজে আমাকে সাহায্য করুন। দিন যায় মাস যায়। অবশেষে কোরআনের শেষ রুকু’টিও পড়া শেষ হয়...
Recent posts

ইসলামিক গল্প (২) একটি খেজুর গাছ। মাওঃ ইনায়েতুল কারীম।

একটি খেজুর গাছ :  একদিন এক ছোট গ্রামে একজন দরিদ্র কৃষক বাস করত। তার নাম ছিল আবদুল্লাহ। আল্লাহর প্রতি তার ভরসা ছিল অটুট, কিন্তু জীবনে দারিদ্র্য তাকে সবসময় কষ্ট দিত। একদিন সে তার ছোট ছেলেকে নিয়ে বাগানে কাজ করতে গেল। সেখানে একটি শুকনো খেজুর গাছ দাঁড়িয়ে ছিল—বছরের পর বছর ফল দিচ্ছিল না। ছেলেটি বলল, “আব্বা, এই গাছটা কেটে ফেলি না কেন? এর কোনো উপকার নেই।” আবদুল্লাহ মৃদু হেসে বললেন, “না বেটা, হয়তো আল্লাহ একদিন এই গাছকে আবার জীবিত করে তুলবেন। আল্লাহর রহমত থেকে কখনো হতাশ হও না।” কয়েকদিন পর প্রচণ্ড বৃষ্টি হলো। বৃষ্টির পর সবাই দেখল, সেই শুকনো খেজুর গাছে নতুন পাতা গজিয়েছে। কিছুদিনের মধ্যেই তাতে মিষ্টি খেজুর ধরল। গ্রামের লোকজন অবাক হয়ে বলল, “আবদুল্লাহ ভাই, আপনি গাছটা কেটে ফেলেননি বলে আল্লাহ আপনাকে বরকত দিয়েছেন।” আবদুল্লাহ বললেন, “আল্লাহর রহমতে কিছুই অসম্ভব নয়। ধৈর্য আর আশা—এই দুই-ই মুমিনের সম্পদ।

ইসলামিক গল্প (1) হিফজের স্বপ্ন। মাওঃ ইনায়েতুল কারীম ।

                                       “হিফজের স্বপ্ন” রিমা নবম শ্রেণির ছাত্রী। বয়স মাত্র চৌদ্দ, কিন্তু আকাঙ্ক্ষা অনেক বড়। প্রতিদিন স্কুল থেকে ফিরে সে পাশের মাদরাসায় যায় কুরআন তিলাওয়াত শেখার জন্য। তার সবচেয়ে বড় স্বপ্ন—একদিন পুরো কুরআন হিফজ করা। একদিন বাড়িতে আত্মীয়-স্বজন এসেছিল। তারা আড্ডায় বসে বলল, — “মেয়েদের এত পড়ালেখা কিসের? বিয়ে দেবে হলেই হলো!” রিমার মা মৃদু হাসলেন, বললেন, — “রাসূল ﷺ বলেছেন, ‘জ্ঞান অর্জন করা প্রতিটি মুসলিম নর-নারীর উপর ফরজ’। মেয়ে মানুষ জ্ঞান থেকে পিছিয়ে থাকতে পারে না।” সবাই চুপ হয়ে গেল। রিমার চোখে আত্মবিশ্বাস জ্বলজ্বল করছিল। রাতের নামাজ শেষে সে দীর্ঘ দোয়া করল, — “হে আল্লাহ! আমাকে কুরআনের হাফিজা বানিয়ে দিন। আমি আপনার কালাম দিয়ে মানুষের জীবন বদলাতে চাই।” দিনগুলো কেটে যায়। রিমা ধৈর্য, আমল ও চেষ্টা—এই তিন অস্ত্র নিয়ে এগিয়ে চলে। স্কুলের পড়া, ঘরের কাজ, আর মাদরাসার হিফজ—সব সামলে চলে সে। মাঝে মাঝে যখন ক্লান্ত হয়ে পড়ে, তখন মনে পড়ে যায়...

আখেরি চাহার সোম্বা কী?

 আজ পবিত্র আখেরি চাহার সোম্বা!  আখেরি চাহার সোম্বা কী?   *আখেরি চাহর শোম্বা মূলত আরবি ও ফার্সি বাক্য। প্রথম শব্দ ‘আখেরি’ আরবি ও ফার্সিতে পাওয়া যায়। যার অর্থ হলো- শেষ। ফার্সি ‘চাহর’ শব্দের অর্থ হলো- সফর মাস এবং ফার্সি ‘শোম্বা’ শব্দের অর্থ হলো- বুধবার। অর্থাৎ ‘আখেরি চাহর সোম্বা’র অর্থ দাঁড়ায়- সফর মাসের শেষ বুধবার। দিনটিকে মুসলিম উম্মাহ খুশির দিন হিসেবে জানে এবং খুশির দিন হিসেবেই উদযাপন করে থাকেন। আখেরি চাহার সোম্বা কী? রসূলুল্লাহ (সা.) এর পবিত্র জীবনের প্রতিটি কথা, প্রতিটি কাজ আর সমস্ত আচার-ব্যবহার, চাল-চলন, গতি-বিধি, পদক্ষেপ, সময়-ক্ষণ তথা সমগ্র জীবনই উত্তম আদর্শের অনুপম নিদর্শন। যা কোরআন শরীফে নানা আঙ্গিকে ব্যক্ত হয়েছে। তবে মক্কায় তার নবুওয়্যাত- রেসালত জীবনের ১৩টি বছরই তাঁকে মক্কার কাফের কোরাইশদের নানামুখী কঠোর নির্যাতন নীরবে সহ্য করতে হয়েছে। হিজরতের পর মদীনায় আগমনের পরও রাসূলুল্লাহ (সা.) ইহুদী-মোনাফেকদের নতুন ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন। মক্কার কাফেররা তাকে, মদীনার ইহুদী মোনাফেকদের যোগ সাজশে স্বস্তিতে-শান্তিতে থাকতে দেয়নি এবং তারা সর্বদা আগ্রাসী ষড়যন্ত্র লিপ্ত থ...

মোহাররম মাসের গুরুত্ব ও ফজিলত সম্পর্কে কোরআন ও হাদিসের আলোকে বিশ্লেষণ I মাওঃ ইনায়েতুল কারীম I

  “দিন যায় রাত আসে। সপ্তাহ পেরিয়ে মাস আসে। ধীরে ধীরে তা-ও ফুরিয়ে যায়।” এই কথাগুলোর মাঝে জীবনের বাস্তব রূপরেখা লুকিয়ে আছে। সময় চলে যায় নিরবধি ধারায়, কখনোই থেমে থাকে না। এক বছরের বারোটি মাস, এক মাসের চারটি সপ্তাহ, প্রতিটি সপ্তাহের সাতটি দিন—এই চক্রে আবর্তিত হয় আমাদের জীবন। আর এই আবর্তনের শেষে একদিন নিভে যায় জীবনের আলো। বুদ্ধিমান তো সেই ব্যক্তি, যে এই সময়ের মূল্য অনুধাবন করে এবং তা আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে ব্যবহার করে। আল্লাহ তাআলা বলেন: إِنَّ فِي خَلْقِ السَّمَاوَاتِ وَالأرْضِ وَاخْتِلافِ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ لَآيَاتٍ لِأُولِي الْأَلْبَابِ “নিশ্চয়ই আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সৃষ্টিতে, এবং রাত ও দিনের পরিবর্তনে নিদর্শন রয়েছে বোধশক্তিসম্পন্নদের জন্য।” — সূরা আলে ইমরান (৩): ১৯০ 🔶 মোহাররমের পরিচয় মোহাররম হল ইসলামি বর্ষপঞ্জির প্রথম মাস এবং এটি হারাম মাসগুলোর একটি। হারাম মাস বলতে সেই মাসগুলোকে বোঝানো হয়, যেগুলোতে যুদ্ধ-বিগ্রহ হারাম করা হয়েছে এবং যেগুলোর সম্মান কুরআন ও সুন্নাহতে বিশেষভাবে উল্লেখিত হয়েছে। 🔶 কোরআনের আলোকে মোহাররমের ফজিলত 🔹 ১. হারাম মাসের আলোচনা 📖 আল-কুরআন: إِنَّ عِ...

জিলহজ্জ মাসের প্রথম দশ দিন এর গুরুত্বপূর্ণ আমল সমুহ।

 বছরের শ্রেষ্ঠ ১০ টি রাত হলো রমজানের শেষ দশক, আর বছরের শ্রেষ্ঠ ১০টি দিন হলো যিলহজ্জের প্রথম দশক।  "জিলহজ্জ মাসের প্রথম দশদিনের আমলের চেয়ে, অন্য কোন দিনের আমল উত্তম নয়।"(সহীহ বুখারী ৯৬৯) অর্থাৎ মহান আল্লাহর  কাছে এই ১০ দিনের আমল অনেক প্রিয়। জিলহজ্জ মাসের প্রথম দশ দিন এর গুরুত্বপূর্ণ আমলসমূহ: ১) জিলহজের প্রথম ৯ দিন রোজা রাখা; বিশেষত আরাফার দিনের রোজা রাখা।  রাসূল (ﷺ) বলেন, আরাফার দিনের রোজার বিষয়ে আমি আল্লাহর নিকট আশা করি যে, তিনি এর দ্বারা বিগত বছর ও আগামী এক বছরের গুনাহ মাফ করে দেবেন।[সহীহ মুসলিম :১১৬২ ] ২) সামর্থ্যবান হলে কুরবানি করা। রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, যে ব্যক্তি সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কুরবানি করলো না, সে যেন আমাদের ঈদগাহের কাছেও না আসে।[ইমাম ইবনু মাজাহ, আস-সুনান:৩১২৩;হাদিসটি হাসান] ৩) এই দশ দিন নখ ও চুল না কাটা। রাসূল (ﷺ) বলেন, তোমাদের কেউ জিলহজ্জ মাসের চাঁদ দেখলে এবং কুরবানি করার ইচ্ছা করলে, সে যেন তার চুল ও নখ কাটা থেকে বিরত থাকে।[সহীহ মুসলিম : ১৯৭৭ ] ৪) চার ধরনের যিকিরে লেগে থাকা। রাসুল (ﷺ)বলেন, ‘‘আল্লাহ তা‘আলার নিকট জিলহজ্জের দশ দিনের আমলের চেয়ে মহান এবং...

সততা ও সত্যনিষ্ঠার সম্পর্কে কোরআন হাদিস কি বলে ? মাওঃ ইনায়েতুল কারীম।

সততা ও সত্যনিষ্ঠার সম্পর্কে কোরআন হাদিস কি বলে ? সততা ও সত্যনিষ্ঠা মানব জীবনের অন্যতম মৌলিক গুণ। এ গুণ দু ’ টি শুধু ব্যক্তি নয় , সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনেরও মূলভিত্তি। একজন মানুষের চরিত্রের পরিপূর্ণতা নির্ভর করে তার সততা ও সত্যনিষ্ঠতার ওপর। ইসলাম শান্তি , ন্যায় , নৈতিকতা ও মানবতার ধর্ম। কোরআন ও হাদিসে বারবার সততা ও সত্যনিষ্ঠতার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। প্রিয়নবী হজরত মুহাম্মদ ( সা .) ছিলেন সততা ও সত্যনিষ্ঠার জীবন্ত উদাহরণ। তিনি নবুয়তের পূর্বেই ‘‘ আল - আমিন ’’ বা ‘ বিশ্বস্ত ’ উপাধিতে ভূষিত হয়েছিলেন। এই প্রবন্ধে কোরআন ও হাদিসের আলোকে সততা ও সত্যনিষ্ঠার গুরুত্ব , তাৎপর্য এবং আমাদের জীবনে এ গুণদ্বয়ের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে। সততা ও সত্যনিষ্ঠার সংজ্ঞা সততা (Honesty) অর্থ হচ্ছে সত্য কথা বলা , সত্যকে গ্রহণ করা এবং কোনো অবস্থাতেই মিথ্যার আশ্রয় না নেওয়া। সততা শুধু মুখের কথা নয় , বরং চিন্তা , বিশ্বাস , কাজ ও আচরণে সত্যনিষ্ঠ থাকার নামই সততা। সত্যনিষ্ঠা (Integrity) মানে হল...