Skip to main content

সততা ও সত্যনিষ্ঠার সম্পর্কে কোরআন হাদিস কি বলে ? মাওঃ ইনায়েতুল কারীম।

সততা ও সত্যনিষ্ঠার সম্পর্কে কোরআন হাদিস কি বলে ?

সততা সত্যনিষ্ঠা মানব জীবনের অন্যতম মৌলিক গুণ। গুণ দুটি শুধু ব্যক্তি নয়, সমাজ রাষ্ট্র গঠনেরও মূলভিত্তি। একজন মানুষের চরিত্রের পরিপূর্ণতা নির্ভর করে তার সততা সত্যনিষ্ঠতার ওপর। ইসলাম শান্তি, ন্যায়, নৈতিকতা মানবতার ধর্ম। কোরআন হাদিসে বারবার সততা সত্যনিষ্ঠতার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। প্রিয়নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) ছিলেন সততা সত্যনিষ্ঠার জীবন্ত উদাহরণ। তিনি নবুয়তের পূর্বেই ‘‘আল-আমিন’’ বাবিশ্বস্তউপাধিতে ভূষিত হয়েছিলেন।

এই প্রবন্ধে কোরআন হাদিসের আলোকে সততা সত্যনিষ্ঠার গুরুত্ব, তাৎপর্য এবং আমাদের জীবনে গুণদ্বয়ের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে।

সততা সত্যনিষ্ঠার সংজ্ঞা

সততা (Honesty) অর্থ হচ্ছে সত্য কথা বলা, সত্যকে গ্রহণ করা এবং কোনো অবস্থাতেই মিথ্যার আশ্রয় না নেওয়া। সততা শুধু মুখের কথা নয়, বরং চিন্তা, বিশ্বাস, কাজ আচরণে সত্যনিষ্ঠ থাকার নামই সততা।

সত্যনিষ্ঠা (Integrity) মানে হলো নিজের নীতি, আদর্শ মূল্যবোধে অটল থাকা এবং কোনো প্রলোভন, ভয় বা চাপে সেগুলো থেকে বিচ্যুত না হওয়া।

 কোরআনের দৃষ্টিতে সততা সত্যনিষ্ঠা

আল-কোরআনে বহু স্থানে সততা সত্যনিষ্ঠার গুরুত্ব আলোচনা করা হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা মানুষকে সত্য কথা বলার নির্দেশ দিয়েছেন:

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا

হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং সত্য কথা বলো।"
(
সূরা আহযাব, ৩৩:৭০)

এই আয়াতে আল্লাহ নির্দেশ দিয়েছেন সত্য কথা বলার জন্য, যা সততার মূলভিত্তি।

হাদিসে সততা সত্যনিষ্ঠা

পবিত্র হাদিসে সততা সত্যনিষ্ঠার অসংখ্য গুরুত্ব বর্ণনা করা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন:

عَلَيْكُمْ بِالصِّدْقِ، فَإِنَّ الصِّدْقَ يَهْدِي إِلَى الْبِرِّ، وَإِنَّ الْبِرَّ يَهْدِي إِلَى الْجَنَّةِ

"তোমরা সততা অবলম্বন করো, কারণ সততা নেকীর দিকে করে, আর নেকী জান্নাতের দিকে করে।" (সহীহ বুখারি মুসলিম)

হজরত মুহাম্মদ (সা.) - সততা সত্যনিষ্ঠার শ্রেষ্ঠ উদাহরণ

. আল-আমিন উপাধি:
রাসূলুল্লাহ (সা.) নবুয়তের পূর্বেই মক্কার জনগণের মধ্যেআল-আমিন” (বিশ্বস্ত) নামে পরিচিত ছিলেন। লোকজন তাদের আমানত তার কাছে রাখতেন। শত্রুরাও তার সততার প্রশংসা করত।

. হিজরতের সময় সততা:
তিনি যখন মক্কা থেকে হিজরত করেন, তখনো তার কাছে অনেক কাফিরদের আমানত ছিল। তিনি হজরত আলী (রা.)-কে রেখে যান যাতে সেই আমানতগুলো যথাযথভাবে ফিরিয়ে দেওয়া যায়।

. ব্যবসায় সততা:
তিনি যৌবনে খাদিজা (রা.)-এর ব্যবসায়ে অংশগ্রহণ করেন এবং সততার সাথে ব্যবসা করে মুনাফা বাড়িয়ে দেন। খাদিজা (রা.) তাঁর সততা দেখে অভিভূত হন এবং পরবর্তীতে বিবাহ প্রস্তাব দেন।

. নবুয়তের দাওয়াতে সততা:
তাঁর নবুয়তের শুরুতেই তিনি সাফা পাহাড়ে দাঁড়িয়ে জাতিকে ডেকে বললেন—“আমি যদি বলি পাহাড়ের পেছনে একটি সেনাবাহিনী আছে, তোমরা কি বিশ্বাস করবে?” তারা বলল, “অবশ্যই, কারণ তুমি কখনো মিথ্যা বলোনি।এর মাধ্যমে তিনি প্রমাণ করলেন যে, সত্যবাদিতা তার জীবনের অন্তর্নিহিত বৈশিষ্ট্য।

অন্যান্য নবী রাসূলদের সততা সত্যনিষ্ঠা

হজরত ইবরাহিম (আঃ):

কুরআনে ইবরাহিম (আঃ)-কে "সিদ্দীক" (চরম সত্যবাদী) বলা হয়েছে

وَاذْكُرْ فِي الْكِتَابِ إِبْرَاهِيمَ ۚ إِنَّهُ كَانَ صِدِّيقًا نَّبِيًّا

আর কিতাবে ইবরাহিমের কথা উল্লেখ কর। তিনি ছিলেন অত্যন্ত সত্যবাদী একজন নবী।
(
সূরা মারইয়াম, ১৯:৪১)

তিনি আল্লাহর প্রতি অগাধ বিশ্বাস রেখে নিজের পিতাকে সত্য উপদেশ দেন এবং নিজের সন্তান ইসমাইল (আঃ)-কে কুরবানি করতে প্রস্তুত হয়ে সত্যনিষ্ঠার বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।

হজরত ইউসুফ (আঃ):

তিনি মিশরের কারাগারে থেকেও সততা সত্যনিষ্ঠার উদাহরণ দেন। রাজা যখন স্বপ্নের ব্যাখ্যা জানতে চায়, তখন তিনি ব্যাখ্যা দেন এবং রাজা তাকে অগ্রাধিকার দিয়ে মুক্ত করেন। তিনি সরকারি দায়িত্বে অধিষ্ঠিত হয়ে বলেছিলেন:

قَالَ اجْعَلْنِي عَلَىٰ خَزَائِنِ الْأَرْضِ ۖ إِنِّي حَفِيظٌ عَلِيمٌ


আমাকে দেশটির কোষাগারের দায়িত্ব দাও, আমি তো আমানতদার জ্ঞানী।
(
সূরা ইউসুফ, ১২:৫৫)

হজরত মূসা (আঃ):

যখন তিনি মাদিয়ানে গিয়ে একটি কূপে দুটি মেয়েকে সহায়তা করেন, তারা বাড়িতে ফিরে গিয়ে তাদের পিতাকে বলেন:

قَالَتْ إِحْدَاهُمَا يَا أَبَتِ اسْتَأْجِرْهُ ۖ إِنَّ خَيْرَ مَنِ اسْتَأْجَرْتَ الْقَوِيُّ الْأَمِينُ


হে পিতা! আপনি তাকে কর্মচারী নিয়োগ করুন, নিশ্চয়ই যে ব্যক্তি আপনি নিয়োগ করবেন, সে যেন হয় শক্তিশালী বিশ্বস্ত (আমিন)  (সূরা কাসাস, ২৮:২৬)

 হজরত শুয়াইব (আঃ):

তিনি মাদিয়ানবাসীদের সততার সাথে ব্যবসা পরিমাপে ন্যায্যতার প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেছিলেন:

وَيَا قَوْمِ أَوْفُوا الْمِكْيَالَ وَالْمِيزَانَ بِالْقِسْطِ وَلَا تَبْخَسُوا النَّاسَ أَشْيَاءَهُمْ وَلَا تَعْثَوْا فِي الْأَرْضِ مُفْسِدِينَ


হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা পরিমাপ ওজন পূর্ণ করো এবং মানুষকে তাদের প্রাপ্য বস্তু কম দিয়ো না।  (সূরা হুদ, ১১:৮৫)

 সততা সত্যনিষ্ঠা নবুয়তের পূর্বশর্ত

হাদিস কোরআনের আলোকে বোঝা যায়, আল্লাহ তার প্রেরিত সকল নবীকে সততা, সত্যবাদিতা, বিশ্বস্ততা চারিত্রিক পবিত্রতায় ভূষিত করে পাঠিয়েছেন। যেমন:

  • তাঁরা মিথ্যা বলতেন না
  • কোনো আমানতে খেয়ানত করতেন না
  • প্রতিশ্রুতি পালন করতেন
  • লোকদের সঙ্গে সদাচরণ করতেন

সততা সত্যনিষ্ঠার উপকারিতা

. আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন: সততার মাধ্যমে একজন মানুষ আল্লাহর নৈকট্য লাভ করে।
. সমাজে সম্মান: একজন সৎ ব্যক্তি সমাজে বিশ্বাসযোগ্য সম্মানিত হন।
. মানসিক প্রশান্তি: মিথ্যার কারণে মানসিক চাপ অস্থিরতা থাকে, যা সততার মাধ্যমে দূর হয়।
. জান্নাতের পথ সুগম: হাদিসে আছে, সততা জান্নাতের দিকে নিয়ে যায়।
. বিশ্বস্ততা অর্জন: সততা মানুষকেআমানতদারহিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে, যা পারস্পরিক আস্থা তৈরি করে।

সততার অভাব সমাজে এর কুফল

যখন সমাজে সততার অভাব ঘটে, তখন

  • দুর্নীতি বৃদ্ধি পায়
  • প্রতারণা চাতুরীর প্রবণতা বাড়ে
  • ব্যবসায় লেনদেনে অবিশ্বাস জন্মায়
  • ন্যায়বিচার ব্যাহত হয়
  • সামাজিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়

বর্তমান সমাজে সততার চরম অভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা এক গভীর নৈতিক সংকটের ইঙ্গিত দেয়। অবস্থা থেকে উত্তরণে কোরআন হাদিসের আলোকে আমাদের নিজেদেরকে সংশোধন করতে হবে।

 পারিবারিক জীবনে সততা সত্যনিষ্ঠার প্রয়োগ

  • সম্পর্কে স্বচ্ছতা: স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের ভিত সততা বিশ্বাসের ওপর গঠিত। মিথ্যা বা গোপনীয়তা সম্পর্ককে দুর্বল করে।
  • সন্তান প্রতিপালনে: অভিভাবকদের উচিত শিশুদের সামনে সত্যভাষণের আদর্শ স্থাপন করা। মিথ্যা বললে তারা শিশুর আস্থা হারিয়ে ফেলে।
  • পারিবারিক সিদ্ধান্তে: বাড়ির গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে সত্যতা ন্যায়ের ভিত্তিতে কাজ করা পরিবারে শান্তি ঐক্য আনে।

 শিক্ষাক্ষেত্রে সততা সত্যনিষ্ঠা

  • পরীক্ষায় অসদুপায় এড়িয়ে চলা: একজন সৎ শিক্ষার্থী কখনও নকল বা মিথ্যার আশ্রয় নেয় না।
  • গবেষণায় সততা: তথ্য পরিসংখ্যানে জালিয়াতি জ্ঞানচর্চার অবমাননা।
  • শিক্ষকের প্রতি সততা: একজন সৎ শিক্ষার্থী সব সময় শিক্ষক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতি দায়িত্বশীল শ্রদ্ধাশীল থাকে।

ব্যবসা-বাণিজ্যে সততা সত্যনিষ্ঠা

  • পরিমাপে ঠিক রাখা: ইসলাম বারবার ব্যবসায়ীদের সততা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছে।
    পরিমাপে পূর্ণতা দাও এবং ওজনে কম কোরো না। (সূরা আর-রহমান, :)
  • প্রতারণা থেকে বিরত থাকা: রাসূল (সা.) বলেন:
    যে প্রতারণা করে, সে আমাদের দলভুক্ত নয়। (সহীহ মুসলিম)
  • পণ্যের গুণগত মানে স্বচ্ছতা: ভুল বা অতিরঞ্জিত তথ্য দিয়ে পণ্য বিক্রি করা মিথ্যা ধোঁকার নামান্তর।

 চাকরি অফিসিয়াল কাজে সততা

  • দায়িত্বে নিষ্ঠা: চাকরিজীবীদের উচিত নির্ধারিত সময় কাজের প্রতি পূর্ণ মনোযোগ দেওয়া।
  • ঘুষ দুর্নীতি থেকে বিরত থাকা: অসততা সমাজকে নৈতিকভাবে দুর্বল করে এবং রাষ্ট্রকে দুর্বল করে।
  • গোপনীয়তা রক্ষা: অফিসিয়াল তথ্য বা দায়িত্বের ক্ষেত্রে বিশ্বস্ততা কর্মচারীর চরিত্রের পরিচায়ক।

 নেতৃত্ব রাজনীতিতে সততা সত্যনিষ্ঠা

  • জনসেবায় স্বচ্ছতা: একজন সৎ নেতা জনগণের কল্যাণে কাজ করে, নিজের স্বার্থে নয়।
  • প্রতিশ্রুতি রক্ষা: মিথ্যা প্রতিশ্রুতি রাজনীতিকে কলুষিত করে। একজন সত্যনিষ্ঠ নেতা তা থেকে বিরত থাকে।
  • দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন: সততা ছাড়া ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।

 ধর্মীয় দায়িত্বে সততা

  • ইমাম, আলেম ধর্ম প্রচারকদের ক্ষেত্রে: তাদের উচিত প্রকৃত ইসলাম তুলে ধরা ধর্মকে আয়ের উৎস হিসেবে ব্যবহার না করা।
  • যাকাত, সদকা ওয়াক্ফ ব্যবস্থাপনায়: ধর্মীয় সম্পদের ব্যবস্থাপনায় সততা জরুরি, কারণ এটি আল্লাহর হক।

বন্ধুত্ব সামাজিক সম্পর্ক

  • বন্ধুদের সঙ্গে খোলামেলা সত্যভাষণ: মিথ্যা ধোঁকা বন্ধুত্বের ভিত্তিকে ধ্বংস করে।
  • সমাজে আস্থা গঠন: একজন সত্যনিষ্ঠ ব্যক্তি সমাজে সহজেই গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠে।

 প্রযুক্তি সামাজিক মাধ্যমে সততা

  • ভুয়া খবর বা গুজব না ছড়ানো: সামাজিক মাধ্যমে মিথ্যা ছড়িয়ে পড়া একটি গুরুতর সমস্যা।
  • তথ্য যাচাইয়ের অভ্যাস: সত্য যাচাই ছাড়া কোনো কিছু শেয়ার না করাই সততার পরিচয়।

     সততা সত্যনিষ্ঠা জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে অপরিহার্য। গুণগুলো ব্যক্তি, সমাজ রাষ্ট্রের কল্যাণে ভূমিকা রাখে। একজন মানুষ যদি প্রতিটি কাজে সত্যনিষ্ঠা বজায় রাখে, তবে সে আল্লাহর নিকট প্রিয় হবে এবং সমাজেও সম্মানিত হবে।রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:
সততা জান্নাতে পৌঁছে দেয়, আর মিথ্যা জাহান্নামের দিকে নিয়ে যায়। (সহীহ বুখারি মুসলিম)
তাই আমাদের সবার উচিত জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সততা সত্যনিষ্ঠা অবলম্বন করে দুনিয়া আখিরাতে সফল হওয়া।

 

মাওঃ ইনায়েতুল কারীম।

সিনিয়র শিক্ষক, ইসলাম শিক্ষা। ইংলিশ ভার্সন।

ক্যামব্রিয়ান স্কুল এন্ড কলেজ মোহাম্মদপুর, ঢাকা।

Comments

Popular posts from this blog

আখেরি চাহার সোম্বা কী?

 আজ পবিত্র আখেরি চাহার সোম্বা!  আখেরি চাহার সোম্বা কী?   *আখেরি চাহর শোম্বা মূলত আরবি ও ফার্সি বাক্য। প্রথম শব্দ ‘আখেরি’ আরবি ও ফার্সিতে পাওয়া যায়। যার অর্থ হলো- শেষ। ফার্সি ‘চাহর’ শব্দের অর্থ হলো- সফর মাস এবং ফার্সি ‘শোম্বা’ শব্দের অর্থ হলো- বুধবার। অর্থাৎ ‘আখেরি চাহর সোম্বা’র অর্থ দাঁড়ায়- সফর মাসের শেষ বুধবার। দিনটিকে মুসলিম উম্মাহ খুশির দিন হিসেবে জানে এবং খুশির দিন হিসেবেই উদযাপন করে থাকেন। আখেরি চাহার সোম্বা কী? রসূলুল্লাহ (সা.) এর পবিত্র জীবনের প্রতিটি কথা, প্রতিটি কাজ আর সমস্ত আচার-ব্যবহার, চাল-চলন, গতি-বিধি, পদক্ষেপ, সময়-ক্ষণ তথা সমগ্র জীবনই উত্তম আদর্শের অনুপম নিদর্শন। যা কোরআন শরীফে নানা আঙ্গিকে ব্যক্ত হয়েছে। তবে মক্কায় তার নবুওয়্যাত- রেসালত জীবনের ১৩টি বছরই তাঁকে মক্কার কাফের কোরাইশদের নানামুখী কঠোর নির্যাতন নীরবে সহ্য করতে হয়েছে। হিজরতের পর মদীনায় আগমনের পরও রাসূলুল্লাহ (সা.) ইহুদী-মোনাফেকদের নতুন ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন। মক্কার কাফেররা তাকে, মদীনার ইহুদী মোনাফেকদের যোগ সাজশে স্বস্তিতে-শান্তিতে থাকতে দেয়নি এবং তারা সর্বদা আগ্রাসী ষড়যন্ত্র লিপ্ত থ...

ইসলামিক গল্প (1) হিফজের স্বপ্ন। মাওঃ ইনায়েতুল কারীম ।

                                       “হিফজের স্বপ্ন” রিমা নবম শ্রেণির ছাত্রী। বয়স মাত্র চৌদ্দ, কিন্তু আকাঙ্ক্ষা অনেক বড়। প্রতিদিন স্কুল থেকে ফিরে সে পাশের মাদরাসায় যায় কুরআন তিলাওয়াত শেখার জন্য। তার সবচেয়ে বড় স্বপ্ন—একদিন পুরো কুরআন হিফজ করা। একদিন বাড়িতে আত্মীয়-স্বজন এসেছিল। তারা আড্ডায় বসে বলল, — “মেয়েদের এত পড়ালেখা কিসের? বিয়ে দেবে হলেই হলো!” রিমার মা মৃদু হাসলেন, বললেন, — “রাসূল ﷺ বলেছেন, ‘জ্ঞান অর্জন করা প্রতিটি মুসলিম নর-নারীর উপর ফরজ’। মেয়ে মানুষ জ্ঞান থেকে পিছিয়ে থাকতে পারে না।” সবাই চুপ হয়ে গেল। রিমার চোখে আত্মবিশ্বাস জ্বলজ্বল করছিল। রাতের নামাজ শেষে সে দীর্ঘ দোয়া করল, — “হে আল্লাহ! আমাকে কুরআনের হাফিজা বানিয়ে দিন। আমি আপনার কালাম দিয়ে মানুষের জীবন বদলাতে চাই।” দিনগুলো কেটে যায়। রিমা ধৈর্য, আমল ও চেষ্টা—এই তিন অস্ত্র নিয়ে এগিয়ে চলে। স্কুলের পড়া, ঘরের কাজ, আর মাদরাসার হিফজ—সব সামলে চলে সে। মাঝে মাঝে যখন ক্লান্ত হয়ে পড়ে, তখন মনে পড়ে যায়...

ইসলামিক গল্প (২) একটি খেজুর গাছ। মাওঃ ইনায়েতুল কারীম।

একটি খেজুর গাছ :  একদিন এক ছোট গ্রামে একজন দরিদ্র কৃষক বাস করত। তার নাম ছিল আবদুল্লাহ। আল্লাহর প্রতি তার ভরসা ছিল অটুট, কিন্তু জীবনে দারিদ্র্য তাকে সবসময় কষ্ট দিত। একদিন সে তার ছোট ছেলেকে নিয়ে বাগানে কাজ করতে গেল। সেখানে একটি শুকনো খেজুর গাছ দাঁড়িয়ে ছিল—বছরের পর বছর ফল দিচ্ছিল না। ছেলেটি বলল, “আব্বা, এই গাছটা কেটে ফেলি না কেন? এর কোনো উপকার নেই।” আবদুল্লাহ মৃদু হেসে বললেন, “না বেটা, হয়তো আল্লাহ একদিন এই গাছকে আবার জীবিত করে তুলবেন। আল্লাহর রহমত থেকে কখনো হতাশ হও না।” কয়েকদিন পর প্রচণ্ড বৃষ্টি হলো। বৃষ্টির পর সবাই দেখল, সেই শুকনো খেজুর গাছে নতুন পাতা গজিয়েছে। কিছুদিনের মধ্যেই তাতে মিষ্টি খেজুর ধরল। গ্রামের লোকজন অবাক হয়ে বলল, “আবদুল্লাহ ভাই, আপনি গাছটা কেটে ফেলেননি বলে আল্লাহ আপনাকে বরকত দিয়েছেন।” আবদুল্লাহ বললেন, “আল্লাহর রহমতে কিছুই অসম্ভব নয়। ধৈর্য আর আশা—এই দুই-ই মুমিনের সম্পদ।