“হিফজখানার মেয়ে”
নূরজাহান বারো বছরের এক মেয়ে। গ্রামের ছোট এক হিফজখানায় থাকে। বাবা-ছাড়া সংসার—মা দিনমজুর। নূরজাহানের স্বপ্ন সে একজন হাফেজা হবে, যাতে কিয়ামতের দিন সে মায়ের মাথায় নূরের মুকুট পরাতে পারে।
কিন্তু সমস্যা হলো— সে খুব দুর্বল শরীরের মেয়ে। প্রায়ই অসুস্থ হয়। অনেক সময় লম্বা রোজা, দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কোরআন তিলাওয়াত— এসবেই মাথা ঝিম ধরে। সহপাঠীরাও মাঝে মাঝে বলে—
“তুই পারবি না। কষ্টের জীবন কারো কাজে আসে না।”
একদিন হঠাৎ নূরজাহান জ্বরে পড়ে অজ্ঞান হয়ে যায়। চিকিৎসক বলেন, “এত চাপ নেবে না, পড়া বন্ধ রাখো।”
খবর শুনে মা চোখের পানি মুছতে মুছতে বলল,
— “মা, যদি তোর জীবনই না থাকে, তাহলে হিফজ করে কী হবে?”
চোখ খুলতেই নূরজাহান দুর্বল কণ্ঠে বলল,
— “মা, জীবন আমার—আর উদ্দেশ্যও আমার। আল্লাহ্ চাইলে মৃত্যু ঘরে বসেও আসবে। কুরআন মুখস্থ করে মরলে মরাই শ্রেষ্ঠ।”
পরদিন থেকেই সে আবার শুরু করে। সে কাঁপা কাঁপা গলায় শুধু একটি দোয়া পড়তে থাকে—
“اللهم أعني على حفظ كتابك” — হে আল্লাহ! আপনার কিতাব হিফজে আমাকে সাহায্য করুন।
দিন যায় মাস যায়। অবশেষে কোরআনের শেষ রুকু’টিও পড়া শেষ হয়। পুরো মাদরাসা সেদিন কান্নায় ভরে যায়— আনন্দের কান্না। নূরজাহান সফল।
কিন্তু গল্প এখানেই শেষ নয়। হিফজ সমাপ্তির কয়েকদিন পর সে আবার অসুস্থ হয়ে পরপারে পাড়ি দেয়। মৃত্যুর আগে শুধু এই কথাই বলে গেছে—
— “আল্লাহ্ আমাকে কবুল করুন।”
মাদরাসাশিক্ষক জানাজার পর কবর পাশে দাঁড়িয়ে বললেন,
— “এই মেয়েটি দুনিয়ায় অভাবের মধ্যে বেঁচেছিল, কিন্তু কুরআনের জন্য বেঁচেছিল। যে কুরআনের জন্য বাঁচে, সে কখনও ব্যর্থ হয় না।”
— সত্যি, ছোট্ট দেহে বড় বিশ্বাস থাকলে আল্লাহ সেই নামকেই অমর করে রাখেন।
Comments
Post a Comment