Skip to main content

একটি বিয়ের গল্প


ইবনে আবি ওদায়াহ তুমি কই ছিলে এতোদিন? তোমাকে হাদিসের দরসে দেখিনা যে? 

জি শায়েখ, আমার প্রিয়তাম স্ত্রী ইন্তেকাল করেছেন তাই আমি কিছুদিন দরসে উপস্থিত হতে পারিনি। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন) 

তুমিতো কিছুই বলোনি আমাকে! যাইহোক বিয়ের ব্যাপারে কি ভাবলে? শায়েখ আসলে আমার হাত পুরো খালি একটি কানাকড়ি ও আমার হাতে নেই কিভাবে বিয়ের কথা ভাবি!! 

বলছিলাম প্রখ্যাত তাবেয়ী সাঈদ ইবনে মুসাইয়্যাব রাহি. এর মেয়ের বিয়ের কথা। 


ওদিকে প্রখ্যাত তাবেয়ী মুহাদ্দিস আবু হুরায়রা রা. এর মেয়ের জামাই সাঈদ ইবনে মুসাইয়্যাব সিরিয়ার গভর্নর এর ছেলের বিয়ের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছেন নিজের রূপবতী, জ্ঞানী কন্যার ব্যাপারে। বলেছিলেন আমি আমার কন্যাকে কোন ক্ষমতাবান কারো হাতে তুলে দেবোনা। এমন কারো হাতে তুলে দেবো যে পরম ক্ষমতাবান আল্লাহর নিকট নিজেকে সোপর্দ করে। 

ইবনে আবি ওয়াদাহ কে বললেন, তুমি আমার মেয়েকে দুই দিরহামের বিনিময়ে বিয়ে করতে পারবে? উত্তরে বললেন, আপনি যদি আমাকে এক দেরহামের কথাও বলেন তাতে আমি পারবোনা কারণ, আমার হাতে একটি পয়সাও নেই ঘরেও কোন খাবার নেই। এ বলে চলে গেলেন ইবনে আবি ওয়াদাহ। 


রাতে দরজার ঠকঠক আওয়াজ হচ্ছে। কে? 

আমি সাঈদ। ও আল্লাহ! শায়েখ আপনি আমার বাড়িতে! ঘরে আসতে পারি? অবশ্যই শায়েখ। 


হে বৎস! এই নাও দুই দেরহাম। এবার আমাকে আমার মেয়ের মহোরানা হিসেবে আমাকে দুই দেরহাম দিয়ে দাও। সাঈদ ইবনে মুসাইয়্যাব বের হয়ে গেলেন। আবার ভেতরে আসলেন এবার সাথে কালো কাপড়ে আবৃত কাউকে যেন নিয়ে আসলেন। সাঈদ ইবনে মুসাইয়্যাব বললেন, এই নাও আমার কন্যা আজ থেকে তোমার। আমি চাইনা কারো অনুপস্থিতিতে তোমার গুনাহ হয়ে যাক। 

আর রিজিকের চিন্তা করোনা। যে মুত্তাকি যে মহান রবের উপর ভরসা রাখে আল্লাহ তাকে অঢেল রিজিক দান করব.... 

Comments

Popular posts from this blog

আখেরি চাহার সোম্বা কী?

 আজ পবিত্র আখেরি চাহার সোম্বা!  আখেরি চাহার সোম্বা কী?   *আখেরি চাহর শোম্বা মূলত আরবি ও ফার্সি বাক্য। প্রথম শব্দ ‘আখেরি’ আরবি ও ফার্সিতে পাওয়া যায়। যার অর্থ হলো- শেষ। ফার্সি ‘চাহর’ শব্দের অর্থ হলো- সফর মাস এবং ফার্সি ‘শোম্বা’ শব্দের অর্থ হলো- বুধবার। অর্থাৎ ‘আখেরি চাহর সোম্বা’র অর্থ দাঁড়ায়- সফর মাসের শেষ বুধবার। দিনটিকে মুসলিম উম্মাহ খুশির দিন হিসেবে জানে এবং খুশির দিন হিসেবেই উদযাপন করে থাকেন। আখেরি চাহার সোম্বা কী? রসূলুল্লাহ (সা.) এর পবিত্র জীবনের প্রতিটি কথা, প্রতিটি কাজ আর সমস্ত আচার-ব্যবহার, চাল-চলন, গতি-বিধি, পদক্ষেপ, সময়-ক্ষণ তথা সমগ্র জীবনই উত্তম আদর্শের অনুপম নিদর্শন। যা কোরআন শরীফে নানা আঙ্গিকে ব্যক্ত হয়েছে। তবে মক্কায় তার নবুওয়্যাত- রেসালত জীবনের ১৩টি বছরই তাঁকে মক্কার কাফের কোরাইশদের নানামুখী কঠোর নির্যাতন নীরবে সহ্য করতে হয়েছে। হিজরতের পর মদীনায় আগমনের পরও রাসূলুল্লাহ (সা.) ইহুদী-মোনাফেকদের নতুন ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন। মক্কার কাফেররা তাকে, মদীনার ইহুদী মোনাফেকদের যোগ সাজশে স্বস্তিতে-শান্তিতে থাকতে দেয়নি এবং তারা সর্বদা আগ্রাসী ষড়যন্ত্র লিপ্ত থ...

ইসলামিক গল্প (1) হিফজের স্বপ্ন। মাওঃ ইনায়েতুল কারীম ।

                                       “হিফজের স্বপ্ন” রিমা নবম শ্রেণির ছাত্রী। বয়স মাত্র চৌদ্দ, কিন্তু আকাঙ্ক্ষা অনেক বড়। প্রতিদিন স্কুল থেকে ফিরে সে পাশের মাদরাসায় যায় কুরআন তিলাওয়াত শেখার জন্য। তার সবচেয়ে বড় স্বপ্ন—একদিন পুরো কুরআন হিফজ করা। একদিন বাড়িতে আত্মীয়-স্বজন এসেছিল। তারা আড্ডায় বসে বলল, — “মেয়েদের এত পড়ালেখা কিসের? বিয়ে দেবে হলেই হলো!” রিমার মা মৃদু হাসলেন, বললেন, — “রাসূল ﷺ বলেছেন, ‘জ্ঞান অর্জন করা প্রতিটি মুসলিম নর-নারীর উপর ফরজ’। মেয়ে মানুষ জ্ঞান থেকে পিছিয়ে থাকতে পারে না।” সবাই চুপ হয়ে গেল। রিমার চোখে আত্মবিশ্বাস জ্বলজ্বল করছিল। রাতের নামাজ শেষে সে দীর্ঘ দোয়া করল, — “হে আল্লাহ! আমাকে কুরআনের হাফিজা বানিয়ে দিন। আমি আপনার কালাম দিয়ে মানুষের জীবন বদলাতে চাই।” দিনগুলো কেটে যায়। রিমা ধৈর্য, আমল ও চেষ্টা—এই তিন অস্ত্র নিয়ে এগিয়ে চলে। স্কুলের পড়া, ঘরের কাজ, আর মাদরাসার হিফজ—সব সামলে চলে সে। মাঝে মাঝে যখন ক্লান্ত হয়ে পড়ে, তখন মনে পড়ে যায়...

ইসলামিক গল্প (২) একটি খেজুর গাছ। মাওঃ ইনায়েতুল কারীম।

একটি খেজুর গাছ :  একদিন এক ছোট গ্রামে একজন দরিদ্র কৃষক বাস করত। তার নাম ছিল আবদুল্লাহ। আল্লাহর প্রতি তার ভরসা ছিল অটুট, কিন্তু জীবনে দারিদ্র্য তাকে সবসময় কষ্ট দিত। একদিন সে তার ছোট ছেলেকে নিয়ে বাগানে কাজ করতে গেল। সেখানে একটি শুকনো খেজুর গাছ দাঁড়িয়ে ছিল—বছরের পর বছর ফল দিচ্ছিল না। ছেলেটি বলল, “আব্বা, এই গাছটা কেটে ফেলি না কেন? এর কোনো উপকার নেই।” আবদুল্লাহ মৃদু হেসে বললেন, “না বেটা, হয়তো আল্লাহ একদিন এই গাছকে আবার জীবিত করে তুলবেন। আল্লাহর রহমত থেকে কখনো হতাশ হও না।” কয়েকদিন পর প্রচণ্ড বৃষ্টি হলো। বৃষ্টির পর সবাই দেখল, সেই শুকনো খেজুর গাছে নতুন পাতা গজিয়েছে। কিছুদিনের মধ্যেই তাতে মিষ্টি খেজুর ধরল। গ্রামের লোকজন অবাক হয়ে বলল, “আবদুল্লাহ ভাই, আপনি গাছটা কেটে ফেলেননি বলে আল্লাহ আপনাকে বরকত দিয়েছেন।” আবদুল্লাহ বললেন, “আল্লাহর রহমতে কিছুই অসম্ভব নয়। ধৈর্য আর আশা—এই দুই-ই মুমিনের সম্পদ।