Skip to main content

ইসলামী রাষ্ট্রের রূপরেখা । মাওঃ ইনায়েতুল কারীম ।

 ইসলামী রাষ্ট্রের রূপরেখা

প্রারম্ভিক কথা :

“ইসলাম একটা পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান” এই বাক্যের মর্মার্থই হলো, মানুষের জীবনের দৃশ্যমান বা অদৃশ্য সকল বিষয়ের ব্যাপারে ইসলামের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। মানুষের জিনগত বৈশিষ্ট্যের কারণেই মানুষ সংঘবদ্ধ হয়ে বসবাস করে। এই সংঘবদ্ধতার প্রথম বৃত্ত হলো পরিবার। এরপরে পর্যায়ক্রমে গোত্র, সমাজ এবং বৃহত্তর পরিসরে রাষ্ট্র। এই সংঘবদ্ধ হয়ে বসবাস করতে গিয়ে মানুষকে প্রতিনিয়ত নানাজনের সাথে সম্পর্ক রক্ষা করে চলতে হয়। মানুষের এই সম্পর্ক রক্ষা করে চলাকেই প্লেটো বলেছিলেন, “মানুষ রাজনৈতিক প্রাণি”। রাজনৈতিক প্রাণি মানুষের সবচেয়ে বড় এবং নিবিড় ও জীবন ঘনিষ্ট সংগঠন হচ্ছে রাষ্ট্র। ইসলাম যেহেতু পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান সেজন্য মানুষের সবচেয়ে বড় ও জীবন ঘনিষ্ট সংগঠন রাষ্ট্র সম্পর্কেও ইসলামের দিক-নির্দেশনা রয়েছে। সেই নির্দেশনা মান্য করা মুমিনের অপরিহার্য কর্তব্য।

ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার গুরুত্ব :

কারণ-১

এই আয়াতে আল্লাহ বলেছেন, ইসলাম ছাড়া অন্য কিছুকে “দীন” হিসেবে কামনা করলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না। এখানে দীনের অর্থে যদি জীবন বিধান করা হয়, তাহলে মানুষের জীবন বিধানের সবচেয়ে বড় বাহ্যিক প্রতিষ্ঠান রাষ্ট্রও শামিল হয়ে যায়। তাহলে এই আয়াতের অর্থ দাঁড়াচ্ছে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা হিসেবে কেউ যদি ইসলাম ব্যতীত অন্য কিছুকে বেছে নেয়, তাহলে তা গ্রহণযোগ্য না।

কারণ-২

রাষ্ট্রীয়ভাবে ইসলাম চর্চা না হলে ইসলামী দ্বন্দ্ব-বিধি সম্পর্কিত কোরআনের বহু আয়াতের কার্যকারিতা স্থগিত থাকে।

কারণ-৩

ইসলামের অনুপস্থিতিতে যেসব ব্যবস্থায় রাষ্ট্র পরিচালিত হচ্ছে, তার সবগুলোতেই আল্লাহর সার্বভৌমত্বকে অস্বীকার করা হয়েছে।

কারণ-৪

রাষ্ট্রীয়ভাবে ইসলামের অনুপস্থিতির কারণে ইসলামে নিষিদ্ধ এবং হারাম বহু বিষয় মুসলমানদের পালন করতে বাধ্য করা হচ্ছে।

কারণ-৫

“মুসলামনদের পতন” এই কথাটার অর্থ এই নয় যে, ইসলামের তাত্বিক দিকের কোনো পরাজয় হয়েছে; বরং এর অর্থ হলো- রাজনৈতিকভাবে ইসলামের পতন হয়েছে। এর অর্থ হলো- রাজনৈতিকভাবে বা রাষ্ট্রীয়ভাবে মুসলমানদের পতনকে “ইসলামের পতন” হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

কারণ-৬

রাসুল (সা.) এর জীবনের ১০ বছর এবং তারপরে পৃথিবীর সেরা চারজন মানুষের জীবন অতিবাহিত হয়েছে রাষ্ট্রীয়ভাবে ইসলামের সম্প্রসারণ ও রক্ষার কাজে। এছাড়াও আরো নানা কারণে রাষ্ট্রীয়ভাবে ইসলাম প্রতিষ্ঠার গুরুত্ব অপরিসিম। এই গুরুত্বকে অনুধাবন করেই আজকের এই আয়োজন।

আজকের লেখাটি আমি নিন্মোক্তভাবে সাজিয়েছি-

১. ‘ইসলামী রাষ্ট্র’ নাকি ইসলামী উম্মাহ?

২. ‘ইসলামী রাষ্ট্র’ কি কোনো কাঠামোর নাম নাকি কোন বৈশিষ্ট্য গত অবস্থা?

৩. ইসলামী রাষ্ট্রের কি কোন সুনির্দিষ্ট কাঠামো আছে?

৪. পশ্চিমা বা আধুনিক রাষ্ট্র কাঠামো কি সমূলে পরিত্যাজ্য?

৫. ইসলামী রাষ্ট্র প্রধান মানোনয়নের পদ্ধতি কী হবে?

ক. খেলাফতের সার্বজনীনতা

খ. নির্বাচন করতে কি নিষেধাজ্ঞা আছে

গ. রাষ্ট্রপ্রধান মনোননের পদ্ধতি কি সুনির্দিষ্ট

ঘ. সাহাবাদের দুই স্তরে বায়াত গ্রহণ

ঙ. নির্বাচন- দ্বি-স্তরভিত্তিক

৬. রাষ্ট্রপ্রধানের মেয়াদ

ক. পদত্যাগের প্রতি কি নিষেধাজ্ঞা আছে?

খ. ৫ বছরের সময় বেঁধে দেয়া

৭. আইন সভা

৮. নির্বাহি বিভাগ

ক. রাষ্ট্রপতিই প্রধান হবেন

৯. বিচার বিভাগ

১০.সাংবিধানিক আদালত

১১. বিভিন্ন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান

ক. ন্যায়পাল

খ. নির্বাচন কমিশন

গ. মহাহিসাব নিরীক্ষা

ঘ. ইসলামী শরিয়াহ পরিচালন তদারকি কমিশন ইত্যাদি।

১২. উপসংহার

-----------------------------------------------------

১.“ইসলামী রাষ্ট্র” ও “ইসলামী উম্মাহ”

রাষ্ট্র ধারণার উৎপত্তি আধুনিক পশ্চিমে ধারণার ভিত্তি হলো ৪টি মৌলিক বিষয়ের ওপরে। যথা-

১. সুনির্দিষ্ট ভুখন্ড

২. সুনির্দিষ্ট জনগণ

৩. জনগণের সার্বভৌমত্ব ও

৪. সরকার

এই ধারণাগুলো সাথে ইসলামের ভিন্নমত আছে। যেমন- ইসলামের সুনির্দিষ্ট কোনো ভুখন্ড নেই; বরং গোটা বিশ্ব এবং সকল মানুষই ইসলামের অধিভুক্ত। আল-কোরআনে রাসুল (সা.)-কে “রহমাতুল লিল আলামিন” বলা হয়েছে, কোরআনে বারংবার ইয়া আইয়ুহান নাস বলা হয়েছে, সকল মুমিনকে এক জাতিভুক্ত বলা হয়েছে এবং রাষ্ট্রের কোনো সার্বভৌমত্ব ইসলাম স্বীকার করেন না। সেজন্য রাষ্ট্র ধারণার সাথে ইসলামের সম্পর্ক দুরতম। তাই ইসলামে উম্মাহ শব্দটা ব্যবহার করা হয়েছে। “উম্মাহ” সুনির্দিষ্ট ভুখন্ড, সুনির্দিষ্ট জাতিসত্ত্বার উর্ধ্বে একটা ইসলামভিত্তিক সার্বজনীন ধারণা। সেজন্য ইসলামী রাষ্ট্র না বরং ইসলামী উম্মাহ ধারণাই যথার্থ।

তারপরেও আমরা এখানে ‘রাষ্ট্র’ শব্দকে ব্যবহার করছি চলতি পরিভাষা হিসেবে। এর মাধ্যমে আমরা আমাদের আপাতত প্রাথমিক কর্মক্ষেত্র নির্ধারণ করে নিচ্ছি। “উম্মাহ” ধারণার বর্তমানে একটি তাত্ত্বিক ধারণার রূপ নিয়েছে। এর প্রয়োগিক বাস্তবতা আপাতত প্রায় শূন্য। আরবরা একই ভাষা ও সংস্কৃতিভুক্ত হওয়ার পরেও তারা ভিন্ন ভিন্ন “রাষ্ট্রে” রূপ নিয়েছে। বিশ্বে বর্তমানে মুসলমানদের উম্মাহ চিন্তা প্রায় বিলীন। গোটা উম্মাহ ৫৮টা রাষ্ট্রে বিভক্ত। তারা ৫৮ জাতিতে পরিণত হয়েছে। এই ৫৮ জাতিকে একক মুসলিম জাতিতে রূপান্তরিত করতে এবং তাদের মাঝে ইসলামী উম্মাহ চেতনার জাগ্রত করতে প্রাথমিকভাবে কোনো ভূখন্ডে ইসলাম প্রতিষ্ঠা করতে হবে। রাসুল (সা.) মদিনায় যেমনটা করেছিলেন। আমরাও প্রাথমিকভাবে বাংলাদেশকে আমাদের কর্মক্ষেত্র হিসেবে নির্ধারণ করেছি। সেজন্যই আমরা রাষ্ট্র শব্দটা ব্যবহার করছি।

২.ইসলামী রাষ্ট্র কি কোনো কাঠামোর নাম?

ইসলামী রাষ্ট্র কি কোনো কাঠামোর নাম? নাকি এটা একটা বৈশিষ্ট্য? ইসলামী রাষ্ট্র বলতে আমরা কি বুঝি? এটা কি সুনির্দিষ্ট কোন কাঠামো না? নাকি এটা সরকারের বৈশিষ্ট্য? সুনির্দিষ্ট কাঠামো বলতে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার, সংসদীয় সরকার বা রাজতন্ত্রের মতো কি ইসলামী রাষ্ট্রের কোন কাঠামো আছে? নাকি  যেমন সরকারে পরিচালনা বৈশিষ্ট্য তেমনি ইসলামী রাষ্ট্র কিছু বৈশিষ্ট্যের সমষ্টি? আমার পড়াশোনায় মনে হয়েছে ইসলামী রাষ্ট্র বা খেলাফত কোনো সুনির্দিষ্ট কাঠামোর নাম না; বরং এটা হলো কোনো সরকারের কিছু বৈশিষ্ট্য।

৩.ইসলামী রাষ্ট্রের কি কোনো সুনির্দিষ্ট কাঠামো আছে?

ইসলামী রাষ্ট্রের কি কোনো সুনির্দিষ্ট কাঠামো আছে? এর উত্তরে নির্দিধায় বলা যায় যে, ইসলামী রাষ্ট্রের কোনো সুনির্দিষ্ট কাঠামো নেই। ইতিহাসের শুরুতে হযরত খোলাফায়ে রাশেদার সময়কালের সরকার কাঠামো ছিলো একনায়কতন্ত্রের কাঠামোর মতো। এখানে ভুল বোঝার সুযোগ নেই। বলা হচ্ছে কাঠামো ছিলো একনায়কতন্ত্রের মতো। কিন্তু সেটা বৈশিষ্ট্যগতভাবে ছিলো আল্লাহর নির্দেশ পালনরত এবং কল্যাণকামী সংগঠন। খোলাফায়ে রাশেদার পরে এই শেষ তুর্কি উসমানীদেররকেও খলিফা বলা হতো। তারা ছিলো রাজতান্ত্রিক। ইসলামের সুদীর্ঘ হাজার বছরের ইতিহাসে অনেক ওলামায়ে কেরাম অনেক খলিফার বিরোধিতা করেছেন। কিন্তু সেটা কাঠমোগত বিচ্যুতির কারণে না; বরং বৈশিষ্ট্যগত বিচ্যুতির কারণে। আর সুনির্দিষ্ট কাঠামো ঠিক করে দেয়া ইসলামের সার্বজনীন বৈশিষ্টের সাথেও সাঞ্জস্যপূর্ণ না। কারণ মানব সমাজ প্রতিনিয়ত পরিবতৃনশীল। এর আকার এবং ধরণ নিত্য বদলায়। সেজন্য ইসলাম কোনো কাঠামো নির্ধারণ করার চেয়ে বরং কিছু নীতি নির্ধারণ করে দিয়েছে। সেই সব নীতি পরিবর্তনশীল না। সেগুলোর ক্ষেত্রে আমরা রক্ষণশীল। কিন্তু কাঠামোর ক্ষেত্রে আমরা পরিবর্তনীয় চিন্তা করেছি।

যেহেতু নির্দিষ্ট না তাহলে ঐতিহ্য অনুসরণ করি? এখানে একটা সমস্যা আছে। “ঐতিহ্য” তৎকালীন পৃথিবীর বাস্তবতায় যথার্থ ছিলো। সেই পদ্ধতিতে একক ব্যক্তির হাতে ব্যাপক ক্ষমতা থাকতো তিনি জবাবদিহি করবেন কিনা, তিনি জনতার প্রতি দায়বদ্ধ হবেন কিনা বা তিনি শরীয়হ পূর্ণ পালন করবেন কিনা তা সম্পূর্ণই তার নিজস্ব চেতনাবোধ ও বৈশিষ্ট্যের ওপরে নির্ভর করতো। সেই পদ্ধতিতে এমন কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা ছিলো না যার মাধ্যমে তাকে বাধ্য করা যেতো। একান্তই ব্যক্তি নির্ভর হওয়ার কারণে খোলাফায়ে রাশেদার পর থেকেই এই পদ্ধতির মাধ্যমে খেলাফতের আদর্শ রূপের বিচ্যুতি ঘটেছে। যার সহসা কোন সমাধা করা যায়নি। সেজন্য আমরা আমাদের রাষ্ট্রে কাঠামো চিন্তায় ঐতিহ্যকে এড়িয়ে যেতে চেয়েছি। বরং আমরা এমন এটা পদ্ধতি প্রণয়ন করার চিন্তা করেছি। যেখানে আদর্শরূপ থেকে যেকোন বিচ্যুতি প্রাতিষ্ঠানিকভাবেই সমাধা করা যাবে। প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো নির্ধারণের আগে একটা বিষয় সমাধা হওয়া দরকার।

৪.পশ্চিমা রাষ্ট্র চিন্তা কি নির্বিচারে পরিত্যাজ্য?

পশ্চিমা রাষ্ট্র কাঠামোর তাত্ত্বিক ভিত্তি গণতন্ত্র বা সমাজতন্ত্র। এই তাত্ত্বিক ভিত্তির সাথে ইসলামের ভিন্নতা সুস্পষ্ট। এই তাত্ত্বিক ভিত্তির কোন কিছুকেই ইসলামে আত্মস্থ করার সুযোগ নেই। কিন্তু এর রাষ্ট্র কাঠামো? সেটাও কি নির্বচারে পরিত্যাজ্য? আমি বলতে চাই, না। নির্বিচারে পরিত্যাজ্য না। এর যুক্তি তিনটি।

১ম যুক্তি হলো, উসুলে ফিকাহের এটা উসুল সকল জিনিসের মূল হালাল। তবে এর ওপরে কোন বিধান আসলে সেই বিধান অনুসারেই তার বিধান হবে। এখন পশ্চিম রাষ্ট্র কাঠামো কেবল পশ্চিমা হওয়ার কারণেই তা পরিত্যাজ্য না। বরং সেখানে বিচার করে দেখতে হবে। আমরা সেটা করতে চাই। সেই রাষ্ট্র কাঠামোর বিচার-বিশ্লেষণ করেই যদি তার সাথে ইসলামের সাংঘর্ষিক কিছু পাওয় না যায়, তাহলে সেটা বিবেচ্য হতে পারে।

২য় যুক্তি হলো, গত ১৬ শতক থেকেই ইসলামের চিন্তা জগতে একটা স্থবিরতা বিরাজ করছে। আবার একই সময়ে পশ্চিমা জগতে সমাজ-রাষ্ট্র নিয়ে প্রচুর গবেষণা হয়েছে। অনেক কাজ হয়েছে। গত কয়েকটা বছর ধরে বিভিন্ন গবেষণা করে বর্তমাণে রাষ্ট্র কাঠামোর একটা সমন্বিত ও চমৎকার রূপ দাঁড় হয়েছে। আমরা এটাকে বিবেচনা করতে পারি।

৩য় একটা যুক্তি হলো, বর্তমান বিশ্বে রাষ্ট্রের সাথে মানুষের সম্পর্ক ধারণায় ব্যাপক পরিবর্তন ঘটেছে। রাষ্ট্র-রাজনীতি সম্পর্কে মানুষের আগ্রহ বেড়েছে। বিশেষত জবাবদিহিতা, কল্যাণকামিতা, জনসম্পৃক্ততা, অংশগ্রহণমূলক সরকার ধারণার ব্যাপক প্রসার ঘটেছে। তো বর্তামানে কোন রাষ্ট্র কাঠামো প্রস্তাব করতে হলে এই বিষয়গুলোকে মাথায় রাখতেই হবে।

৫.ইসলামী রাষ্ট্র প্রধানের মনোনয়ন পদ্ধতি।

ইসলামী রাষ্ট্র সংক্রান্ত আলোচনার প্রদান গুরুত্ব পূর্ণ বিষয় হলো, রাষ্ট্র প্রধানের মনোনয়ন পদ্ধতি কি হবে?

এই ক্ষেত্রে আমরা প্রথমত ইসলামের সুনির্দিষ্ট কোন পন্থা সুপারিশ করা আছে কিনা সেটা অনুসন্ধান করেছি। এক্ষেত্রে আমাদের অনুসন্ধান বলে, সুনির্দিষ্ট কোন পন্থা সুপারিশ করা নেই। এক্ষেত্রে যত আলোচনা সবগুলোর ভিত্তি হলো চার খলিফার মনোনয়নের ঘটনা। চার খলিফার মনোনয়নের পদ্ধতি থেকে যে বিষয়গুলো সামনে আসে সেগুলো হলে-

ক. মজলিসে খাস কর্তৃক প্রথম মনোনয়ন

খ. পূর্ববর্তী খালিফা কর্তৃক নাম প্রস্তাব

গ. বিশেষ নির্বাচনী বোর্ড

ঘ. এবং সর্বাবস্থাতেই চূড়ান্ত খোফতের পদ চূড়ান্ত হওয়ার জন্য আমর বায়াত বা জনসমর্থন।

এই বায়াত বা জনসমর্থনে কোন বাচ-বিচার করা হয়নি। এই পুরো প্রক্রিয়ায় থেকেই দুইটা মূলনীতি লক্ষ্য করা যায়।

১ম টা হলো, খলিফা হওয়ার জন্য বা রাষ্ট্র প্রধান মনোনিত হওয়ার জন্য নির্দিষ্ট বা বিশেষ কর্তৃপক্ষ কর্র্তক প্রাথমিক মনোনয়ন হওয়া।

২য় হলো, জনসমর্থন গ্রহণ করা। এই দুই মূলনীতি সাব্যস্ত হওয়ার পরে আমরা আরেকটা বিষয় আলোচনা করতে চাই। সেটা হলো, আল্লাহ তা’য়ালা জমিনে ‘খলিফা’ সৃষ্টি করেছেন। এই ‘খেলাফত’ কোন বিশেষ পদের নাম না। বরং সকল মানুষই আল্লাহর ‘খলিফা’। এই খেলাফতের দুইটি দিক আছে। এক হলো, মানুষ ব্যক্তিগত জীবনে আল্লাহর হুকুম আহকাম পালন করবে । আরেকটা দিক হলো, সামগ্রিকভাবে আল্লাহর বিধান বাস্তবায়ন করবে। সামগ্রিকভাবে বিধান বাস্তবায়ন করতে হলে সবচেয়ে বড় কার্যকর প্রতিষ্ঠান হলো রাষ্ট্র। তখন খেলাফতের পূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে হলে তাকে রাষ্ট্র পরিচালনাতেও অংশ নিতে হবে। উপরোক্ত আলোচনার সারমর্ম হলো, রাষ্ট্র পরিচালনায় জনগণের সম্পৃক্ততা অপরিহার্য এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রাথমিকবাবে “আহলুল হল ওয়াল আকদ” কর্তৃক মনোনিত হয়ে পরবর্তীতে সাধারন মানুষের সমর্থন গ্রহণ করতে হবে।

এর ওপরে ভিত্তি করে আমরা সুপারিশ করতে চাই যে, ইসলামী রাষ্ট্রের প্রধান নির্বাচিত হতে হবে। নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্রের প্রধান মনোনিত হবেন। এখানে তো রাষ্ট্র প্রধান মনোনয়নের ক্ষেত্রে আমাদের প্রস্তাব হলো, দেশে একটা সাংবিধানিক আদালত থাকবে। যাদের প্রধানতম দায়িত্ব হবে, দেশের নেতা নির্বাচনে প্রার্থীদের যাচাই-বাছাই করে প্রাথমিক উপযোগীতা অনুমোদন করা। সাংবিধানিক আদালত কর্তৃক অনুমোদিত হলেই কোন ব্যক্তি সাধারন মানুষের সমর্থন চাইতে পারবে, সাংবিধানিক আদালত কর্তৃক অনুমোদিত ব্যক্তিবর্গ সাধারন মানুষের সমর্থন পেলে রাষ্ট্র প্রধান নির্বাচিত হবেন।

নির্বাচন পদ্ধতি কি হবে?

নির্বাচন পদ্ধতির বর্তমান প্রথা অনুসারে ব্যক্তি নিজের জন্য পদ প্রার্থী হয় এবং নিজের জন্য সমর্থন চায়। এটা রাসুল সা. এর হাদিস দ্বারা নিষিদ্ধ। সেজন্য প্রতিটা রাজনৈতিক দল থেকে যে কয়টা সংসদীয় আসন সেই কয়জন ব্যক্তির নাম ধারাবাহিকবাবে প্রকাশ করবে। নির্বাচনে যে দল যত শতাংশ ভোট পাবে সেই দলের পক্ষ থেকে ধারাবাহিকভাবে সেই কয়জন নির্বাচিত হবেন। বেলজিয়াম, ইতালি, স্পেনসহ বহুদেশে এই পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। তো নির্বাচনের আগে প্রতিটা দল তালিকা পেশ করবে। সাংবিধানিক আদালত সেই তালিকা অনুমোদন করলে নির্বঅচন হবে। নির্বাচনের পরে এদেরকে নিয়ে মজলিসে শুরা গঠন করা হবে। এই মজলিসে শুরা রাষ্ট্র প্রধান নির্বাচন করবে। কোন ব্যক্তিকে রাষ্ট্র প্রধান নির্বাচিত হতে হলে তাকেও সাংবিধানিক আদালতের অনুমোদন পেতে হবে। এখানে বিশেষভাবে বাংলাদেশের সাংবিধানের ৭০ ধারার মতো ধারা যেখানে বলা আছে যে, দলীয় সংসদগণ দলের সিদ্ধান্তের বাহিরে ভোট দিতে পারবে না- রাখা যাবে না। মজলিসে শুরা রাষ্ট্র প্রধান নির্বাচনের ক্ষেত্রে স্বাধীন থাকবে।

৬.রাষ্ট্র প্রধানের মেয়াদ :

ইসলামের ইতিহাসে কোন খলিফার জীবদ্দশায় পদত্যাগ করার নজীর নাই। কিন্তু কেউ স্বেচ্ছায় বা আইনের অনুগত হয়ে পদত্যাগ করার ক্ষেত্রে কোন বিধি নিষেধও নাই। হযরত উসমান (রা.) ক্ষেত্রে রাসুল সা. এর স্বপ্নযোগে পদত্যাগে যে নিষেধাজ্ঞা বর্ণনা রয়েছে সেটা হলো, অন্যায় দাবীর মুখে পদত্যাগে নিষেধাজ্ঞা। এক্ষেত্রে আমার বিবেচ্য বিষয় হলো, ইসলামী রাষ্ট্র হলো কিছু বৈশিষ্ট্যের সমষ্টিগত রূপ। এখন এমন কোন পদ্ধতি গ্রহণ করা যাবে না যাতে সেই বৈশিষ্ট্য নষ্ট হয়। বর্তমান যুগ রাসুল সা. থেকে ১৪০০ বছর পরের যুগ। এই যুগ সম্পর্কে বলা হয়, এখনকার সেরা বুজুর্গকে দেখলেও সাহাবায়ে কেরাম তাকে কাফের মনে করতো। তার মানে এখনকার মুসলিমদের মাঝে বৈশিষ্ট্যগত এতো অধঃপতন হয়েছে; সেজন্য খোলাফায়ে রাসেদার ওপর কেয়াস করে এখনকার শাসকের মেয়াদ আমৃত্যু রাখা বিপদজনক। এতে করে সে স্বৈরাচারী হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বৈশিষ্ট্য ও অবস্থানগত পরিবর্তনের কারণে হযরত ওমর রা: যাকাতের খাত থেকে মুআল্লাফাতি কুলুব বাদ দিয়ে দেন। অথচ তা নসে বর্ণিত। মহিলাদের জামাতে যাওয়া নিষেধ করেছেন। অথচ তা রাসুলের যুগে অনুমোদিত ছিলো। সেজন্য আমরা রাষ্ট্র প্রধানের মেয়াদ আমৃত্যু না করে ৫ বছর করার প্রস্তাব করছি।

৭.আইনসভা :

আইন সভাই মজলিসে শুরা বলে বিবেচিত হবেন। আমরা ২ স্তর বিশিষ্ট পরামর্শ সভা প্রস্তাব করছি। নিম্ন কক্ষ যারা মূলত এলাকা ভিত্তিক জনপ্রতিনিধি। এখানে যে সমস্যাটা তৈরী হতে পারে যে এলাকা ভিত্তিক জনপ্রতিনিধিগণ জ্ঞানে ও ইসলামী জ্ঞানে কাঙ্খিত মানের নাও হতে পারে। সেজন্য উচ্চ কক্ষ বলে একটা কক্ষ বা পরামর্শ সভা থাকবে। তারা মূলত দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে দল কর্তৃক মনোনিত হবে। তবে তারা হতে হবে ১/৩ মুফতি এবং বাকিরা নিভিন্ন বিষয়ে বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিবর্গ। নিম্নকক্ষে অনুমোদিত সকল আইন উচ্চ কক্ষের সুপারিশের পরেই চূড়ান্ত অনুমোদন পাবে। নিম্ন কক্ষের পাশকৃত আইন উচ্চ কক্ষ শরীয়াহ এর আলোকে বিচার বিশ্লেষণ করে যদি অনুমোদন না করে তাহলে তা পুনরায় সংশোধনের জন্য নিম্নকক্ষে যাবে।

আইন সভার কর্মপরিধি :

শরীয়াতে সুস্পষ্ট নির্দেশনা এমন বিষয়াবলীকে বাস্তবায়ন করার সমসাময়িক পন্থা ও কাঠামো নির্ধারণ করা। শরীয়াতে বলা নাই এমন দৈনন্দিন বিষয়াবলীতে মেজাজে শরীয়াহকে সামনে নিয়ে আইন প্রণয়ন করা।

৮.নির্বাহি বিভাগ :

রাষ্ট্র প্রধানের নেতৃত্বে নির্বাহী বিভাগ গঠিত হবে। নির্বাহী বিভাগ সকল কাজের জন্য পরামর্শ সভা এবং সাংবিধানিক আদালতের কাছে দায়বদ্ধ থাকবে।

৯.বিচার বিভাগ :

স্বাধীন বিচার বিভাগ থাকবে। বিচার বিভাগের দীর্ঘসুত্রিতা কমাতে জেলা আদালত এবং আপিল আদালত থাকবে। প্রতি বিভাগেই আপিল আদালত থাকবে। রাষ্ট্রে নিজস্ব আইন কর্মকর্তা থাকবেন। তারাই মামলার প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করে বিচার কাজে সাহায্য করবেন। প্রচলিত আইন ব্যবসায় নিরুৎসাহিত করা হবে।

১০.সাংবিধানিক আদালত :

কোন দিন কোন রাষ্ট্রীয় পদে আসীন হতে পারবে না এমন শর্তে দেশের শীর্ষ স্থানীয় ওলামায়ে কেরাম, শিক্ষাবিদ, বুদ্ধিজীবীদেরকে নিয়ে সাংবিধানিক আদালত গঠিত হবে। রাষ্ট্র প্রধানের সুপরিশ এবং মজলিসে শুরার অনুমোদনে সাংবিধানিক আদালতের সদস্য মনোনিত হবেন। এই সদস্যগণ আমৃত্যু এখানে সমাসিন থাকবেন এবং সাধারন তারা বিতর্কের উর্ধ্বে থাকবেন।

১১.বিভিন্ন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান

দুর্নীতি দমন কমিশন

নির্বাচন কমিশন

শরিয়া কমিশন

মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক

কর্ম কমিশন

ইসলামে ক্ষমতা সম্পর্কিত ধারনা

এখানে একটা বিষয় আলোচনা করে নেয়া দরকার। আধুনিক রাষ্ট্রে সরকারের সক্ষমতাকে ‘ক্ষমতা’ বলে অবিহিত করা হয়। কিন্তু ইসলামী রাষ্ট্রের সরকারের সক্ষমতাকে ‘ক্ষমতা’ বলে বিবেচনা করা হয় না। বরং এটাকে কর্তব্য বা দায়িত্ব বলে মনে করা হয়। এই পার্থক্যের অনেক বড় ধরণের প্রয়োগিত প্রতিক্রিয়া রয়েছে। ক্ষমতার ধারনা মানুষকে স্বৈরাচারী করে তোলে আর দায়িত্ব ও কর্তব্যবোধ মানুষকে বিনয়ী করে তোলে। রাষ্ট্রের আমলা-কর্মকর্তাদের সামগ্রিক আচরণ এই নীতির মাধ্যমে জনবান্ধব হবে।

১২.উপসংহার

এই আলোচনার মূল লক্ষ্য হলো, এই সংক্রান্ত আলোচনাকে সামনে নিয়ে আসা। এটা কেবলই একটা প্রস্তাবনা। এর বিস্তারিত আলোচনা হওয়া কাম্য। আল্লাহ তৌফিক দিন। আমীন।

                                                                                    মাওঃ ইনায়েতুল কারীম ।

                                        শিক্ষক, লেখক ও ইসলামী গবেষক।ক্যামব্রিয়ান কলেজ। মোহাম্মদপুর, ঢাকা।


Comments

Popular posts from this blog

আখেরি চাহার সোম্বা কী?

 আজ পবিত্র আখেরি চাহার সোম্বা!  আখেরি চাহার সোম্বা কী?   *আখেরি চাহর শোম্বা মূলত আরবি ও ফার্সি বাক্য। প্রথম শব্দ ‘আখেরি’ আরবি ও ফার্সিতে পাওয়া যায়। যার অর্থ হলো- শেষ। ফার্সি ‘চাহর’ শব্দের অর্থ হলো- সফর মাস এবং ফার্সি ‘শোম্বা’ শব্দের অর্থ হলো- বুধবার। অর্থাৎ ‘আখেরি চাহর সোম্বা’র অর্থ দাঁড়ায়- সফর মাসের শেষ বুধবার। দিনটিকে মুসলিম উম্মাহ খুশির দিন হিসেবে জানে এবং খুশির দিন হিসেবেই উদযাপন করে থাকেন। আখেরি চাহার সোম্বা কী? রসূলুল্লাহ (সা.) এর পবিত্র জীবনের প্রতিটি কথা, প্রতিটি কাজ আর সমস্ত আচার-ব্যবহার, চাল-চলন, গতি-বিধি, পদক্ষেপ, সময়-ক্ষণ তথা সমগ্র জীবনই উত্তম আদর্শের অনুপম নিদর্শন। যা কোরআন শরীফে নানা আঙ্গিকে ব্যক্ত হয়েছে। তবে মক্কায় তার নবুওয়্যাত- রেসালত জীবনের ১৩টি বছরই তাঁকে মক্কার কাফের কোরাইশদের নানামুখী কঠোর নির্যাতন নীরবে সহ্য করতে হয়েছে। হিজরতের পর মদীনায় আগমনের পরও রাসূলুল্লাহ (সা.) ইহুদী-মোনাফেকদের নতুন ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন। মক্কার কাফেররা তাকে, মদীনার ইহুদী মোনাফেকদের যোগ সাজশে স্বস্তিতে-শান্তিতে থাকতে দেয়নি এবং তারা সর্বদা আগ্রাসী ষড়যন্ত্র লিপ্ত থ...

ইসলামিক গল্প (1) হিফজের স্বপ্ন। মাওঃ ইনায়েতুল কারীম ।

                                       “হিফজের স্বপ্ন” রিমা নবম শ্রেণির ছাত্রী। বয়স মাত্র চৌদ্দ, কিন্তু আকাঙ্ক্ষা অনেক বড়। প্রতিদিন স্কুল থেকে ফিরে সে পাশের মাদরাসায় যায় কুরআন তিলাওয়াত শেখার জন্য। তার সবচেয়ে বড় স্বপ্ন—একদিন পুরো কুরআন হিফজ করা। একদিন বাড়িতে আত্মীয়-স্বজন এসেছিল। তারা আড্ডায় বসে বলল, — “মেয়েদের এত পড়ালেখা কিসের? বিয়ে দেবে হলেই হলো!” রিমার মা মৃদু হাসলেন, বললেন, — “রাসূল ﷺ বলেছেন, ‘জ্ঞান অর্জন করা প্রতিটি মুসলিম নর-নারীর উপর ফরজ’। মেয়ে মানুষ জ্ঞান থেকে পিছিয়ে থাকতে পারে না।” সবাই চুপ হয়ে গেল। রিমার চোখে আত্মবিশ্বাস জ্বলজ্বল করছিল। রাতের নামাজ শেষে সে দীর্ঘ দোয়া করল, — “হে আল্লাহ! আমাকে কুরআনের হাফিজা বানিয়ে দিন। আমি আপনার কালাম দিয়ে মানুষের জীবন বদলাতে চাই।” দিনগুলো কেটে যায়। রিমা ধৈর্য, আমল ও চেষ্টা—এই তিন অস্ত্র নিয়ে এগিয়ে চলে। স্কুলের পড়া, ঘরের কাজ, আর মাদরাসার হিফজ—সব সামলে চলে সে। মাঝে মাঝে যখন ক্লান্ত হয়ে পড়ে, তখন মনে পড়ে যায়...

ইসলামিক গল্প (২) একটি খেজুর গাছ। মাওঃ ইনায়েতুল কারীম।

একটি খেজুর গাছ :  একদিন এক ছোট গ্রামে একজন দরিদ্র কৃষক বাস করত। তার নাম ছিল আবদুল্লাহ। আল্লাহর প্রতি তার ভরসা ছিল অটুট, কিন্তু জীবনে দারিদ্র্য তাকে সবসময় কষ্ট দিত। একদিন সে তার ছোট ছেলেকে নিয়ে বাগানে কাজ করতে গেল। সেখানে একটি শুকনো খেজুর গাছ দাঁড়িয়ে ছিল—বছরের পর বছর ফল দিচ্ছিল না। ছেলেটি বলল, “আব্বা, এই গাছটা কেটে ফেলি না কেন? এর কোনো উপকার নেই।” আবদুল্লাহ মৃদু হেসে বললেন, “না বেটা, হয়তো আল্লাহ একদিন এই গাছকে আবার জীবিত করে তুলবেন। আল্লাহর রহমত থেকে কখনো হতাশ হও না।” কয়েকদিন পর প্রচণ্ড বৃষ্টি হলো। বৃষ্টির পর সবাই দেখল, সেই শুকনো খেজুর গাছে নতুন পাতা গজিয়েছে। কিছুদিনের মধ্যেই তাতে মিষ্টি খেজুর ধরল। গ্রামের লোকজন অবাক হয়ে বলল, “আবদুল্লাহ ভাই, আপনি গাছটা কেটে ফেলেননি বলে আল্লাহ আপনাকে বরকত দিয়েছেন।” আবদুল্লাহ বললেন, “আল্লাহর রহমতে কিছুই অসম্ভব নয়। ধৈর্য আর আশা—এই দুই-ই মুমিনের সম্পদ।