Skip to main content

জুলুমের পরিনতি । ইনায়েতুল কারীম।

জুলুমের পরিনতি :

রাসূলুল্লাহ ﷺ সাধারণত কারো নাম ধরে বদদুআ করতেন না। কিন্তু, একবার তিনি ৭ জন কাফিরের নাম ধরে বদদুআ করেন। 

হাদীসের বর্ণনাকারী বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ যাদের নাম ধরে বদদুআ করেন আমি তাদের সবাইকে বদরের কূপে নিহতাবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেছি। 

আল্লাহর সবচেয়ে প্রিয় সৃষ্টি রাসূলুল্লাহ ﷺ। তাঁর ওপর শারীরিক অত্যাচার করা হলে তিনি সর্বশক্তিমান আল্লাহর কাছে যালিমদের নাম ধরে বিচার দেন। 

আল্লাহ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দুআ কবুল করেছেন। মাযলুমের দুআ আল্লাহ সাথে সাথে কবুল করেন, কিন্তু সেটা আমাদের কাছে দৃশ্যমান হয় আল্লাহর নিয়মানুযায়ী। 

রাসূলুল্লাহর ঐ দুআর অন্তত ২ থেকে ৫ বছর পর সেই সাতজন কাফির মারা যায় বদর যুদ্ধে। 

আল্লাহ চাইলে তো সাথে সাথেই তাদের ফয়সালা করতে পারতেন। কিন্তু, আল্লাহ তাঁর নিয়মানুযায়ী, তাঁর দেয়া অবকাশ অনুযায়ী সেই বিচার দুনিয়াতে করেন, কিয়ামতের বিচার তো বাকি।

আল্লাহ পবিত্র কুরআনের একটি সূরা নাযিল করে জানিয়ে দিলেন ‘আবু লাহাব ধ্বংস হবে’। রাসূলুল্লাহ ﷺ–এর যুগের আর কোনো কাফিরের নামোচ্চারণ আল্লাহ পবিত্র কুরআনে করেননি। সেই আবু লাহাব তার ভাতিজাকে (ﷺ) কী না করেছে! তাঁর কলার ধরে টেনেছে, ঘরের সামনে আবর্জনা রেখেছে। 

আল্লাহ পবিত্র কুরআনে একটি সূরা নাযিল করা সত্ত্বেও সেই আবু লাহাবের পরিণতি আসতে অন্তত ১২ বছর লাগে। 

আবু জাহেল নির্মমভাবে হত্যা করে সুমাইয়া রাদিয়াল্লাহু আনহা এবং ইয়াসির রাদিয়াল্লাহু আনহুকে। তাঁদের ছেলে আম্মার ইবনে ইয়াসির রাদিয়াল্লাহু আনহু। তিনি মক্কায় যতোদিন ছিলেন ততোদিন চোখের সামনে দেখতে পান তাঁর মা-বাবার হত্যাকারী আবু জাহেল কী আরামে ঘুরে বেড়াচ্ছে! 

তাঁর মা-বাবার হত্যাকারীর পরিণতি দেখতে তাঁকে অপেক্ষা করতে হয় অন্তত ১০ বছর। 

ইসলাম গ্রহণ করার কারণে কী নির্মম অত্যাচার করা হয়েছিলো বিলাল ইবনে রাবাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুকে! মরুভূমির প্রখর রোদের মধ্যে শুইয়ে পাথর চাপা দেয়া হতো। গরমে তাঁর শরীরের মাংস পুড়ার গন্ধ বের হতো! 

বিলাল রাদিয়াল্লাহু আনহুকে অত্যাচার করতো উমাইয়্যা ইবনে খালাফ। তিনি লিটারেলি প্রতিশোধ নেন এই অত্যাচারের প্রায় ১৩ বছর পর! 

আমি যখন সীরাত পড়ি, তখন হতাশ হই না। আমি বর্তমান নিয়ে আশা দেখি। 

যখনই মনের কোণে হা-হুতাশ জাগে, এতো এতো মাজলুমের দুআ কি আল্লাহ শুনছেন না? মাজলুমের দুআ আর আল্লাহর মধ্যে তো পর্দা থাকে না। তাহলে কেনো আল্লাহ সাড়া দিচ্ছেন না?

তখনই সীরাতে চলে যাই। গিয়ে দেখি, আল্লাহ ঠিকই সাড়া দেন। আমি যখন, যেভাবে চাচ্ছি সেভাবে না; আল্লাহ সাড়া দেন আল্লাহর সুন্নাত অনুযায়ী। 

মাজলুম হিশেবে আমার আপনার কাজ চেষ্টা করা, দুআ করা। 

আল্লাহ সাড়া দিবেন এই ইয়াক্বিন রাখা চাই।

( ইনশাআল্লাহ) আমরা যেন না বলি আল্লাহ আমার ও আমাদের ডাকে সাড়া দিচ্ছেন না কেনো ! আল্লাহ কি সাড়া দিবেন না !! এসব ‘তর্ক’ বান্দা হিশেবে আমাদের মানায় না। তাই চলুন রবের উপর ইয়াক্বিন রেখে তার সাজে সজ্জিত হই ।তার রঙ্গে রাঙ্গিয়ে তুলি আমাদের এই জীবন। 

Comments

Popular posts from this blog

আখেরি চাহার সোম্বা কী?

 আজ পবিত্র আখেরি চাহার সোম্বা!  আখেরি চাহার সোম্বা কী?   *আখেরি চাহর শোম্বা মূলত আরবি ও ফার্সি বাক্য। প্রথম শব্দ ‘আখেরি’ আরবি ও ফার্সিতে পাওয়া যায়। যার অর্থ হলো- শেষ। ফার্সি ‘চাহর’ শব্দের অর্থ হলো- সফর মাস এবং ফার্সি ‘শোম্বা’ শব্দের অর্থ হলো- বুধবার। অর্থাৎ ‘আখেরি চাহর সোম্বা’র অর্থ দাঁড়ায়- সফর মাসের শেষ বুধবার। দিনটিকে মুসলিম উম্মাহ খুশির দিন হিসেবে জানে এবং খুশির দিন হিসেবেই উদযাপন করে থাকেন। আখেরি চাহার সোম্বা কী? রসূলুল্লাহ (সা.) এর পবিত্র জীবনের প্রতিটি কথা, প্রতিটি কাজ আর সমস্ত আচার-ব্যবহার, চাল-চলন, গতি-বিধি, পদক্ষেপ, সময়-ক্ষণ তথা সমগ্র জীবনই উত্তম আদর্শের অনুপম নিদর্শন। যা কোরআন শরীফে নানা আঙ্গিকে ব্যক্ত হয়েছে। তবে মক্কায় তার নবুওয়্যাত- রেসালত জীবনের ১৩টি বছরই তাঁকে মক্কার কাফের কোরাইশদের নানামুখী কঠোর নির্যাতন নীরবে সহ্য করতে হয়েছে। হিজরতের পর মদীনায় আগমনের পরও রাসূলুল্লাহ (সা.) ইহুদী-মোনাফেকদের নতুন ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন। মক্কার কাফেররা তাকে, মদীনার ইহুদী মোনাফেকদের যোগ সাজশে স্বস্তিতে-শান্তিতে থাকতে দেয়নি এবং তারা সর্বদা আগ্রাসী ষড়যন্ত্র লিপ্ত থ...

ইসলামিক গল্প (1) হিফজের স্বপ্ন। মাওঃ ইনায়েতুল কারীম ।

                                       “হিফজের স্বপ্ন” রিমা নবম শ্রেণির ছাত্রী। বয়স মাত্র চৌদ্দ, কিন্তু আকাঙ্ক্ষা অনেক বড়। প্রতিদিন স্কুল থেকে ফিরে সে পাশের মাদরাসায় যায় কুরআন তিলাওয়াত শেখার জন্য। তার সবচেয়ে বড় স্বপ্ন—একদিন পুরো কুরআন হিফজ করা। একদিন বাড়িতে আত্মীয়-স্বজন এসেছিল। তারা আড্ডায় বসে বলল, — “মেয়েদের এত পড়ালেখা কিসের? বিয়ে দেবে হলেই হলো!” রিমার মা মৃদু হাসলেন, বললেন, — “রাসূল ﷺ বলেছেন, ‘জ্ঞান অর্জন করা প্রতিটি মুসলিম নর-নারীর উপর ফরজ’। মেয়ে মানুষ জ্ঞান থেকে পিছিয়ে থাকতে পারে না।” সবাই চুপ হয়ে গেল। রিমার চোখে আত্মবিশ্বাস জ্বলজ্বল করছিল। রাতের নামাজ শেষে সে দীর্ঘ দোয়া করল, — “হে আল্লাহ! আমাকে কুরআনের হাফিজা বানিয়ে দিন। আমি আপনার কালাম দিয়ে মানুষের জীবন বদলাতে চাই।” দিনগুলো কেটে যায়। রিমা ধৈর্য, আমল ও চেষ্টা—এই তিন অস্ত্র নিয়ে এগিয়ে চলে। স্কুলের পড়া, ঘরের কাজ, আর মাদরাসার হিফজ—সব সামলে চলে সে। মাঝে মাঝে যখন ক্লান্ত হয়ে পড়ে, তখন মনে পড়ে যায়...

ইসলামিক গল্প (২) একটি খেজুর গাছ। মাওঃ ইনায়েতুল কারীম।

একটি খেজুর গাছ :  একদিন এক ছোট গ্রামে একজন দরিদ্র কৃষক বাস করত। তার নাম ছিল আবদুল্লাহ। আল্লাহর প্রতি তার ভরসা ছিল অটুট, কিন্তু জীবনে দারিদ্র্য তাকে সবসময় কষ্ট দিত। একদিন সে তার ছোট ছেলেকে নিয়ে বাগানে কাজ করতে গেল। সেখানে একটি শুকনো খেজুর গাছ দাঁড়িয়ে ছিল—বছরের পর বছর ফল দিচ্ছিল না। ছেলেটি বলল, “আব্বা, এই গাছটা কেটে ফেলি না কেন? এর কোনো উপকার নেই।” আবদুল্লাহ মৃদু হেসে বললেন, “না বেটা, হয়তো আল্লাহ একদিন এই গাছকে আবার জীবিত করে তুলবেন। আল্লাহর রহমত থেকে কখনো হতাশ হও না।” কয়েকদিন পর প্রচণ্ড বৃষ্টি হলো। বৃষ্টির পর সবাই দেখল, সেই শুকনো খেজুর গাছে নতুন পাতা গজিয়েছে। কিছুদিনের মধ্যেই তাতে মিষ্টি খেজুর ধরল। গ্রামের লোকজন অবাক হয়ে বলল, “আবদুল্লাহ ভাই, আপনি গাছটা কেটে ফেলেননি বলে আল্লাহ আপনাকে বরকত দিয়েছেন।” আবদুল্লাহ বললেন, “আল্লাহর রহমতে কিছুই অসম্ভব নয়। ধৈর্য আর আশা—এই দুই-ই মুমিনের সম্পদ।